খুলনা | রবিবার | ০৪ অক্টোবর ২০২৬ | ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

‘ঢালাও মৃত্যুদণ্ড নয়, অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী সাজা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে’

খবর প্রতিবেদন |
০৩:৩৩ পি.এম | ০৪ অক্টোবর ২০২৬

 

আন্তজার্তিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এখন অপরাধের মাত্রার ভিক্তিতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর জি এইচ তামিম। তিনি বলেছেন, ঢালাওভাবে সবাইকে মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে অপরাধ অনুযায়ী তিন বছর, সাত বছর, আমৃত্যু কারাদণ্ড ও মৃত্যুদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী সাজা দেওয়ায় মানুষের মনে ন্যায়বিচারের ধারণা তৈরি হয়েছে।

একই সঙ্গে ট্রাইব্যুনালের যে রায়গুলোতে প্রসিকিউশন সন্তুষ্ট হতে পারেনি, সেগুলোর বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন প্রসিকিউটর। এর মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর মামলাও রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

রোববার (৪ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম ও বিভিন্ন মামলার অগ্রগতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর জি এইচ তামিম।

২০২৪ সালের ১৪ই অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠিত হওয়ার কথা উলে­খ করে তিনি বলেন, ‘আইন সংশোধনের মাধ্যমে এই ট্রাইব্যুনাল নতুন মাত্রায় আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে দুটি ট্রাইব্যুনাল মিলিয়ে সাতটি মামলার রায় হয়েছে এবং আরও অনেকগুলো মামলা বিচারাধীন আছে।’

আপিলে যাচ্ছে প্রসিকিউশন
প্রসিকিউটর তামিম জানান, প্রসিকিউশনের কাজ হলো- তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেলে ফরমাল চার্জ (আনুষ্ঠানিক অভিযোগ) দাখিল করা এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করা। এরপর ট্রাইব্যুনাল যাকে যে সাজা পর্যাপ্ত মনে করেন, সেই রায় দেন।

তিনি বলেন, ‘বেশ কয়েকটি মামলায় ট্রাইব্যুনাল যে রায় দিয়েছেন তাতে আমরা সন্তুষ্ট, সেগুলোতে আমরা আপিলে যাইনি। কিন্তু চানখাঁরপুল মামলার মতো বেশ কয়েকটি রায়ে আমরা সন্তুষ্ট হতে পারিনি বলে আপিল করেছি।’

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতির মামলার উদাহরণ টেনে প্রসিকিউটর বলেন, ‘শেখ হাসিনার মামলার একটি অংশে তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, সেখানে আমরা তার মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল করেছি। এছাড়া চীফ প্রসিকিউটর বনাম হাসানুল হক ইনু মামলায় ট্রাইব্যুনাল যে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন, তাতেও প্রসিকিউশন সংক্ষুব্ধ। আমরা খুব শিগগিরই এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

‘আগে ৯৯% সাজা হতো, এখন ন্যায়বিচার হচ্ছে’
উপস্থিত আসামিদের শাস্তি কম এবং পলাতকদের বেশি দেওয়া হচ্ছে- এমন অভিযোগ নাকচ করেছেন প্রসিকিউটর তামিম। তিনি বলেন, ‘ট্রাইব্যুনাল যাকে যে শাস্তি দেওয়ার উপযুক্ত মনে করছেন, তাকেই সেই শাস্তি দিচ্ছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগের ট্রাইব্যুনালকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হতো না, দেশীয়ভাবেও সমালোচনা হতো। কারণ তখন কনভিকশন রেট ছিল ৯৯ শতাংশেরও বেশি এবং মৃত্যুদণ্ডের হার ছিল প্রায় ৯০ শতাংশ। একজন-দুজন ছাড়া সকলকেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতো।’

বর্তমান ট্রাইব্যুনালের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এখন আমরা দেখছি আসামিদের অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী ৩ বছর, ৭ বছর, ১০ বছর, আজীবন কারাদণ্ড এমনকি মৃত্যুদণ্ডও দেওয়া হচ্ছে। সকলকেই যদি গড়পড়তা মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, তবে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে। এখন অপরাধ যতটুকু প্রমাণিত হচ্ছে, ততটুকুই শাস্তি দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে মানুষের মনে ন্যায়বিচারের কনসেপশন তৈরি হচ্ছে।’

মাকসুদ কামালকে গ্রেপ্তারের দায়িত্ব পুলিশের
জুলাই আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার মামলায় অভিযুক্ত সাবেক উপাচার্য (ভিসি) ড. মাকসুদ কামাল দেশে থাকার পরও তাকে গ্রেপ্তার না করার পেছনে কোনো চাপ আছে কি না- একজন সাংবাদিকের এমন প্রশ্নেরও জবাব দেন জি এইচ তামিম।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি প্রসিকিউশনের এখতিয়ারে নেই স্পষ্ট করে তিনি বলেন, ‘আমাদের দায়িত্ব হলো তদন্তে সত্যতা পেলে ফরমাল চার্জ দাখিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আবেদন করা। ট্রাইব্যুনাল পরোয়ানা জারি করলে আমরা তা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দিই। আসামিকে গ্রেপ্তার করার দায়িত্ব সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর।’

কোনো চাপের কথা অস্বীকার করে প্রসিকিউটর বলেন, ‘যেদিন ওয়ারেন্ট জারি হয়েছে, সেদিনই আমরা তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। আমরা আশা করছি, তারা ট্রাইব্যুনালের আদেশ মান্য করে শিগগিরই উনাকে গ্রেপ্তার করে হাজির করবেন। কেন তাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না, সে জবাব তারাই ভালো দিতে পারবেন।’

প্রিন্ট

আরও সংবাদ