খুলনা | সোমবার | ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

সাতক্ষীরা জেলা জজের পদক্ষেপে ৪৯ উমেদারের কার্যক্রম বন্ধ : স্বস্তি ফিরেছে বিচারপ্রার্থীদের মাঝে

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা |
১১:৪৬ পি.এম | ০৪ অক্টোবর ২০২৬


সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিভিন্ন আদালতে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত প্রায় ৪৯ জন উমেদারের কার্যক্রম বন্ধ করে আদালতকে উমেদারমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের বলিষ্ঠ পদক্ষেপে গত ২৯ সেপ্টেম্বর  থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।
আদালত সংশ্লিষ্টদের মতে, উমেদারদের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরণের আর্থিক লেনদেন, বিচার প্রার্থীদের হয়রানি ও ভোগান্তির সুযোগ তৈরি হওয়ার অভিযোগ ছিল। আদালত উমেদারমুক্ত হওয়ায় বিচারপ্রার্থীদের হয়রানি কমবে এবং আদালতের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম আদালতকে দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ রাখতে আদালত সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন। তিনি আদালতে সেবা নিতে আসা বিচারপ্রার্থীদের কোনো ধরনের হয়রানি বা অনৈতিক লেনদেনের শিকার না হওয়ার বিষয়ে সচেতন থাকার আহŸান জানিয়েছেন।
সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির আহবায়ক এড. বিএম মিজানুর রহমান পিন্টু বলেন, আদালত উমেদারমুক্ত করার উদ্যোগটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলে বিচারপ্রার্থীরা সরাসরি সংশ্লিষ্ট শাখা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সেবা নেওয়ার সুযোগ পাবেন। আদালতের পরিবেশ আরও স্বচ্ছ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সরকারি কৌশলী এড. অসীম কুমার মন্ডল বলেন, আদালতের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা অটুট রাখতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অত্যন্ত জরুরি। উমেদারমুক্ত আদালত ব্যবস্থা বিচারপ্রার্থীদের হয়রানি কমানোর পাশাপাশি আদালতের সেবাকে আরও সহজ ও জনবান্ধব করতে ভূমিকা রাখবে।
এড. মুহাঃ মনিরুদ্দীন বলেন, বিচারপ্রার্থীরা আদালতে আসেন ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশায়। তাদের যেন কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর ওপর নির্ভর করতে না হয়, সেটি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আদালত উমেদারমুক্ত করার উদ্যোগ সেই লক্ষ্য পূরণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন।
এদিকে আদালতে আসা কয়েকজন বিচারপ্রার্থীও উদ্যোগটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, আগে আদালতের বিভিন্ন কাজে কার কাছে যেতে হবে বা কীভাবে কাজ সম্পন্ন করতে হবে তা নিয়ে অনেক সময় বিভ্রান্তি তৈরি হতো। উমেদারদের কার্যক্রম বন্ধ হওয়ায় এখন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে এবং এতে সময় ও অর্থ দু’টোই সাশ্রয় হবে বলে তারা আশা করছেন।
বিচারপ্রার্থীদের কয়েকজন বলেন, আদালত চত্বরে সেবার নামে কেউ যাতে অর্থ দাবি করতে না পারে এবং কোনো বিচারপ্রার্থী হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। একই সঙ্গে আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে কাজ করার আহŸান জানান তারা।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আদালতকে উমেদারমুক্ত করার এ উদ্যোগের পাশাপাশি সেবা প্রত্যাশীদের জন্য সুস্পষ্ট নির্দেশনা, তথ্যপ্রাপ্তির সহজ ব্যবস্থা এবং অনৈতিক লেনদেনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে সাতক্ষীরা আদালতের সেবার মান আরও উন্নত হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ