খুলনা | সোমবার | ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

মালয়েশিয়ায় প্রশিক্ষিত শ্রমিক পাঠাবে সরকার

খবর প্রতিবেদন |
০১:২৬ এ.এম | ০৫ অক্টোবর ২০২৬


মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে দেশটির চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষিত শ্রমিক পাঠানোর ওপর সরকার গুরুত্ব দেবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। শ্রমিক পাঠানোর আগে চাহিদা নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। রোববার সচিবালয়ে আয়োজিণ এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এর আগে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের অভিযোগ ও শ্রমিক হয়রানির বিষয়টি আলোচনায় এসেছিল। এবার এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে সরকার সতর্ক রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ার চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষিত শ্রমিক পাঠানো হবে।
মালয়েশিয়ার বন্ধ শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, দুই দেশের আলোচনার ভিত্তিতেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অনিয়ম এবং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে হয়রানি বন্ধ করাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন ডিমান্ড অনুযায়ী বোয়েসেল এবং অন্যান্য রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে শ্রমিক পাঠানো হবে। শুধু শ্রমিক পাঠানোই যথেষ্ট নয়; মালয়েশিয়ার নিয়োগদাতারা যে ধরনের দক্ষ শ্রমিক চান, সে অনুযায়ী কর্মী পাঠাতে হবে। প্রশিক্ষণ ছাড়া শ্রমিক পাঠালে দেশটিতে গিয়ে তাঁরা বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হতে পারেন। তাই আগে চাহিদা নির্ধারণ করে সেই অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শ্রমমন্ত্রী বলেন, “আমরা ডিমান্ড অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দিতে চাই। যারা ওই দেশের শ্রমিক নেবে, তারা এখানে এসে তাদের চাহিদা অনুযায়ী সেটা চয়েস করবেন, তারপরে আমরা যাবো।”
মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়ায় বোয়েসেলের পাশাপাশি অন্যান্য অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সিকেও যুক্ত করা হবে বলে জানান তিনি। তবে শ্রমিক পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়াগুলো চ‚ড়ান্ত করতে হবে বলেও উলে­খ করেন।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের মেডিকেল পরীক্ষা-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া এখনো অনুমোদিত হয়নি। মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে শ্রমিকের চাহিদা ও অন্যান্য বিষয় নিশ্চিত হওয়ার পর পরর্বুী কার্যক্রম শুরু করা হবে।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের পাশাপাশি দেশে কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও জানান শ্রমমন্ত্রী। তিনি বলেন, চলতি বছরেই এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ সেন্টার চালু করা হবে। এর মাধ্যমে অনলাইন ও অফলাইন পদ্ধতিতে চাকরিপ্রার্থী এবং বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মীর চাহিদার একটি ডাটাবেস তৈরি করা হবে।
বিভিন্ন শিল্পে শ্রমিক ও কর্মচারীর চাহিদা নির্ধারণের পাশাপাশি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে জব ফেয়ার এবং ক্যারিয়ার ফেয়ারের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থী খুঁজে বের করা হবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে চলতি মাসের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে মজুরি বোর্ড গঠন করা হবে বলেও জানিয়েছেন শ্রমমন্ত্রী।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ