খুলনা | শনিবার | ২৪ অক্টোবর ২০২৬ | ৯ কার্তিক ১৪৩৩

১৯ বছর পর আইসিটি ডিগ্রির ভূত, পাইকগাছার মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে চাঞ্চল্য

পাইকগাছা প্রতিনিধি |
১২:০৫ এ.এম | ০৬ অক্টোবর ২০২৬


পাইকগাছা উপজেলার মঠবাটি জি.জি.পি.জি দাখিল মাদ্রাসায় আইসিটি শিক্ষক পদে মোঃ রবিউল সরদারের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ২০০৪ সালে চাকরিতে যোগদান করলেও দীর্ঘ ১৯ বছর পর ২০২৩ সালে আইসিটি বিষয়ে এক বছরের কোর্স সম্পন্ন করার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসায় তাঁর প্রাথমিক নিয়োগের বৈধতা ও যোগ্যতা নিয়ে বড় ধরনের আইনি ও নৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে।
নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মোঃ রবিউল সরদার ১৯৯০ সালে এসএসসি, ১৯৯৩ সালে এইচএসসি, ১৯৯৬ সালে বিএ এবং ২০০১ সালে এমএ পাশ করেন। এরপর ২০০৪ সালে তিনি মঠবাটি জি.জি.পি.জি দাখিল মাদ্রাসায় আইসিটি শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হলো, আইসিটি বা কম্পিউটার বিষয়ে তাঁর প্রয়োজনীয় এক বছরের ডিপ্লোমা বা সার্টিফিকেট কোর্সটি সম্পন্ন হয়েছে একেবারে সা¤প্রতিক সময়ে ২০২৩ সালে সাতক্ষীরার বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠান ‘সুন্দরবন ইনস্টিটিউট’ থেকে।
প্রশ্ন উঠেছে ২০০৪ সালে যখন তিনি আইসিটি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান, তখন তাঁর আইসিটি-সংক্রান্ত ন্যূনতম কী যোগ্যতা ছিল এবং কোন যোগ্যতার ভিত্তিতে তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল? যে সনদ চাকরিতে যোগদানের প্রায় দুই যুগ পর অর্জিত, তা ২০০৪ সালের নিয়োগের ক্ষেত্রে কীভাবে প্রযোজ্য হলো তা নিয়ে জনমনে গভীর ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এস এম আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, রবিউল সরদারের নিয়োগ ও যোগ্যতার বিষয়টি নিয়ে ইতিপূর্বে তদন্ত হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) পরিদর্শক তাঁর সনদ যাচাই করেছিলেন এবং আপত্তি ওঠার পর মন্ত্রণালয় থেকে তাঁকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এমনকি প্রায় ১৩ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার জন্যও নোটিশ জারির কথা জানিয়েছেন তিনি। তবে ঠিক কী কারণে এবং কোন নথির ভিত্তিতে ওই আপত্তি ও নোটিশ দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে এখনো ধোয়াশা কাটেনি।
এ বিষয়ে পাইকগাছা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রোকসানা পারভীন জানান, নিয়োগের সময় প্রার্থীর যোগ্যতা যদি পূর্বে যাচাই হয়ে থাকে, তবে তা নিয়ে আমি আর নতুন করে কিছু বলতে চাই না। এছাড়া তিনি নিয়মিত বেতন-ভাতা পাচ্ছেন, তাই এখানে কোনো সমস্যা আছে বলে আমি মনে করি না। যোগ্যতার তোয়াক্কা না করে বছরের পর বছর চাকরি করার পর পরবর্তীতে সনদ জোগাড় করার এমন ঘটনায় স্থানীয় শিক্ষিত সমাজ ও বেকার যুবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, যেখানে হাজার হাজার আইসিটি ডিগ্রিধারী তরুণ বেকার ঘুরে বেড়াচ্ছেন, সেখানে পেছনের দরজা দিয়ে চাকরি টিকিয়ে রাখার এই সংস্কৃতি কিসের ইঙ্গিত দেয়? সংশ্লিষ্টদের মতে, ২০০৪ সালের মূল নিয়োগ প্রক্রিয়া, নিয়োগ কমিটির রেজুলেশন এবং ডিআইএ-র পূর্বের তদন্ত প্রতিবেদন নিরপেক্ষভাবে উন্মোচন করলেই বেরিয়ে আসবে এই অনিয়মের আসল রহস্য।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ