খুলনা | মঙ্গলবার | ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

তালায় মাদক কারবারিদের মবে অবরুদ্ধ পুলিশ, আটক ৩

তালা প্রতিনিধি |
১২:৫৫ এ.এম | ০৬ অক্টোবর ২০২৬


মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে এবার মাদক কারবারিদের সংঘবদ্ধ বাধা ও ‘মব’-এর মুখে পড়েছে তালা থানা পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তালা থানার ওসি অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করেন। পরে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করা হয়। রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের হাজরাকাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আটককৃতরা হলেন হাজরাকাটি গ্রামের মৃত আপু বিশ্বাসের ছেলে মোঃ ফারুক বিশ্বাস, নূর ইসলাম বিশ্বাসের ছেলে রফিকুল বিশ্বাস এবং মোসলেম খাঁর ছেলে রাশেদ খাঁ। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের কাছে দেওয়া অভিযোগের বরাতে জানা গেছে, খলিলনগর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ সোহেল শেখ এলাকায় মাদকবিরোধী কার্যক্রমে পুলিশকে সহযোগিতা করে আসছিলেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এর আগে কয়েকজনকে মাদকসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। এরই জের ধরে গত ৩ অক্টোবর রাতে হাজরাকাটি বাজারে একটি চায়ের দোকানের সামনে সোহেল শেখের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন এবং হত্যার হুমকি দেন। পরে আহত সোহেল শেখকে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি তালা থানায় লিখিত অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
ওই অভিযোগ ও জিডির ভিত্তিতে রোববার রাতে অভিযুক্তদের গ্রেফতারে হাজরাকাটি গ্রামে অভিযান চালায় তালা থানা পুলিশ। পুলিশের দাবি, অভিযানের একপর্যায়ে হযরত নামে এক অভিযুক্তকে আটক করা হলে কয়েকজন ব্যক্তি সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশের কাজে বাধা দেয়। তারা পুলিশের কাছ থেকে আটক ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং একপর্যায়ে অভিযানকারী পুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রাখে।
খবর পেয়ে তালা থানার ওসি আবু বক্কর সিদ্দিক অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্যদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে পুলিশের কাজে বাধা ও সংঘবদ্ধ হয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়।
তালা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমির জানান, পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, সরকারি কাজে বাধা এবং পুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ করার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করেছে। মামলায় ১৪ জন এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় তিনজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
থানার ওসি আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, পুলিশের কাজে বাধা দিয়ে আসামি ছিনিয়ে নেওয়া ও সদস্যদের অবরুদ্ধ করার ঘটনায় মামলা হয়েছে। তিনজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ

আঞ্চলিক

প্রায় ১৩ ঘণ্টা আগে