খুলনা | মঙ্গলবার | ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

দিঘলিয়ার চরমপন্থী নেতা নাসিমের ঘাতকেরা ধরা পড়েনি, মামলা হয়নি

দিঘলিয়া প্রতিনিধি |
০১:৫১ এ.এম | ০৬ অক্টোবর ২০২৬


দিঘলিয়ার নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থী সংগঠন পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল) আঞ্চলিক নেতা নাসিমুল গণি ওরফে নাসিমকে প্রকাশ্য গুলি করে হত্যার ৩৬ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজে ঘাতকদের চেহারা পরিষ্কার দেখা গেলেও তাদের পরিচয় শনাক্ত কিংবা হত্যাকান্ডের নেপথ্যের রহস্য উদ্ঘাটন করতে না পারায় থানা পুলিশের তৎপরতা ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষুব্ধ ও আতঙ্কিত এলাকাবাসী।
এদিকে সোমবার ময়নাতদন্ত শেষে নাসিমের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়। নিহত নাসিমের স্ত্রী সেলিনা বেগম মুক্তি বাদী হয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ফরমাইশখানা এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে তৈয়বের চায়ের দোকানে বসেছিলেন নাসিম। এ সময় একটি ভ্যানে আসা সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা তাঁকে লক্ষ্য করে একের পর এক গুলি বর্ষণ করে। ঘাতকদের ছোঁড়া তিনটি গুলি সরাসরি তাঁর মাথায় বিদ্ধ হয়। হত্যাকান্ডের পর বীরদর্পে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে দুর্বৃত্তরা। তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি, অপহরণ, ডাকাতি ও অবৈধ অস্ত্র ব্যবসাসহ অন্তত এক ডজন মামলা রয়েছে বলে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সিসিটিভির মাধ্যমে যেখানে ঘাতকদের স্পষ্ট চেহারা দেখা গেছে, সেখানে ৩৬ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পরও পুলিশের হাত খালি থাকা উদ্বেগজনক। স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে চিরুনি অভিযান চালিয়ে ঘাতকদের গ্রেফতার করা না হলে এলাকায় অপরাধীদের দৌরাত্ম আরও বাড়বে।
দিঘলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাওলাদার সানোয়ার হুসাইন মাসুম জানান মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি হত্যাকান্ডে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। তদন্তের মাধ্যমে দ্রুতই মূল অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ