খুলনা | শনিবার | ২৪ অক্টোবর ২০২৬ | ৯ কার্তিক ১৪৩৩

পলিথিনের ঝুপড়িতে বিশ বছর, রোগে বিছানাগত সবুরা খাতুন

এস এস সাগর, চিতলমারী |
০৫:২৭ পি.এম | ০৬ অক্টোবর ২০২৬


সত্তোরোর্ধ সবুরা খাতুন। তিনকুলে কেউ নেই। ভিক্ষা করে জীবিকা চালাতেন। এখন সেই সক্ষমতা টুকু নেই। রোগে ও শোকে তিনি বিছানাগত। স্বামী রুস্তুম শেখ বছর বিশেক আগে মারা গেছেন। সেই থেকে পলিথিনে মোড়ানো একটি ঝুপড়িতে বসবাস করেন। ঝুপড়িটি আর বসবাসের উপযোগী নেই। সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাউনি ভেদ করে ঘরের মধ্যে পড়ে পানি। অন্যদিকে রোদের তীব্রতায় পলিথিনের ঘরটি হয়ে ওঠে অসহনীয় গরম। দীর্ঘ বিশটি বছর এমন দুর্বিষহ পরিবেশে বসবাস করলেও তাঁর ভাগ্যে জোটেনি নিরাপদ মাথা গোঁজার ঠাঁই। এভাবে তিনি আজও পড়ে আছেন বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার ঘোলা গ্রামে।

সরেজমিনে জানা গেছে, বড়বাড়িয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে ঘোলা জিবিডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাশে একটি ছোট পলিথিনে মোড়ানো ঝুপড়িতে সবুরা খাতুন বসবাস করছেন। শাররীক প্রতিবন্ধকতা ও অসুস্থতার কারণে স্বাভাবিক ভাবে চলাফেরা এবং কাজকর্ম করতে পারেন না। সংসারে কেউ উপার্জনক্ষম না থাকায় প্রতিবেশীদের সহয়তা ও সামান্য বিধবা ভাতার উপর তাঁর জীবন নির্ভরশীল। বর্তমানে ঝুপড়িটির চারপাশে বেড়া হিসেবে টানানো হয়েছে ছেড়া কাপড় ও প্লাস্টিকের বস্তা। ছাউনি হিসেবে ব্যবহার করেছে ছেঁড়া পলিথিন। যা সামান্য বাতাসেই উড়ে যায়। বর্ষকালে বৃষ্টির পানি ঘরের ভিতরে ছুঁই ছুঁই। চারিদিকে জমা হয় স্যাঁতস্যাঁতে কাঁদা। ঘরে আসবাবপত্র বলতে একটি কলসি, কয়েকটি থালা-বাটি ও অল্প কিছু কাপড়-চোপড়।

ঘোলা গ্রামের বাসিন্দা সনিয়া বেগম বলেন, ‘সবুরা খাতুনের নিজের কোনো ভিটেমাটি নেই। আমার মা তাকে থাকার জন্য একটু আশ্রয় দিয়েছে। কিন্তু আমাদের সামর্থ্য নেই তাঁকে ঘর তৈরি করে দেওয়ার। তাঁরও আপনজন কেউ নেই ওষুধ-পথ্য কিনে দেওয়ার। বিষয়টি একাধিকবার জনপ্রতিনিধিদের জানানো হলেও এখনো স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। তাঁর জন্য দ্রæত একটি নিরাপদ ঘরের প্রয়োজন। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও তাঁর উপকারে এগিয়ে আসা উচিত।’

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বেলা ১২ টায় বৃদ্ধা সবুরা খাতুন জানান, এ জগতে আপন বলতে তাঁর আর এখন কেউ নেই। সবাই মারা গেছে। শাররীক অসুস্থার কারনে এখন আর ভিক্ষা করতে পারেন না। কিছু টাকা বিধবা ভাতা পেতেন। গত কোরবানীর ঈদের পর থেকে সে টাকাও পান না। এখন তাঁর বেঁচে থাকাটা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।   
    
বড়বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ সরদার বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত মর্মান্তিক। সবুরা খাতুনের ব্যাপারটি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হবে।’

চিতলমারী উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা শেখ বজলুর রশীদ জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিধবা ভাতাসহ সরকারি সব ধরনের ভাতা প্রদান বন্ধ রয়েছে।

চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার বলেন, ‘বিষয়টি আগে আমার জানা ছিল না। খবর পেয়ে আমি সবুরা খাতুনকে শুকনা খাবার (চাল, ডাল, আলু, লবন ও তেল) প্রদান করেছি। তার নিজস্ব কোন জায়গা না থাকায় ঘরের বিষয়টি নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।’

প্রিন্ট

আরও সংবাদ