খুলনা | শনিবার | ২৪ অক্টোবর ২০২৬ | ৯ কার্তিক ১৪৩৩

পাইকগাছায় এলপিজি গ্যাসের সংকট, বাড়ছে ভোগান্তি

পাইকগাছা প্রতিনিধি |
১১:৫৪ পি.এম | ০৬ অক্টোবর ২০২৬


পাইকগাছায় এলপিজি গ্যাসের তীব্র সরবরাহ সংকটে সাধারণ ভোক্তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। উপজেলার বিভিন্ন বাজারে বসুন্ধরাসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না বলে বিক্রেতারা জানাচ্ছেন। এর পাশাপাশি কোথাও কোথাও মজুত থাকা সিলিন্ডার প্রকাশ্যে বিক্রি না করে বাড়তি দামে গোপনে বিক্রির গুরুতর অভিযোগও উঠেছে।
উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও বিক্রয়কেন্দ্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বসুন্ধরা, ওমেরা, যমুনা, বিএম ও টোটালসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের এলপিজি সিলিন্ডার নিয়ে এই সংকট তৈরি হয়েছে। অনেক বিক্রেতা ক্রেতাদের জানিয়ে দিচ্ছেন যে তাদের দোকানে গ্যাস বা সিলিন্ডার নেই কিংবা সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। তবে স্থানীয় কয়েকজন ভোক্তার অভিযোগ, কিছু দোকানে পর্যাপ্ত সিলিন্ডার থাকা সত্তে¡ও তা প্রকাশ্যে বিক্রি করা হচ্ছে না। কেবল পরিচিত ক্রেতা কিংবা বাড়তি দাম দিতে রাজি হলেই গোপনে সিলিন্ডার দেওয়া হচ্ছে। যদিও এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার কোথাও ১ হাজার ৯০০ টাকা, আবার কোথাও ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। অথচ চলতি অক্টোবর মাসের জন্য বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত ১২ কেজি এলপিজির মূল্য ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। সে হিসাবে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কোথাও ৬৩ টাকা, আবার কোথাও ১৬৩ থেকে সর্বোচ্চ ৩৬৩ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এতে স্থানীয় ভোক্তাদের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বাজারে সত্যিই কোনো সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে, নাকি মজুত রেখে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছে? রান্নার প্রয়োজনীয় এই জ্বালানি কিনতে ভোক্তাদের এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরতে হচ্ছে। প্রয়োজনের তাগিদে বাধ্য হয়ে তাদের অতিরিক্ত টাকা দিয়ে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি করলে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয়দের দাবি, সংকটের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি বাজারে নিয়মিত তদারকি ও মনিটরিং জোরদার করা হোক। একই সঙ্গে নির্ধারিত মূল্যের বাইরে বিক্রি বা কৃত্রিম সংকট তৈরির সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা। নিত্যপ্রয়োজনীয় এই রান্নার জ্বালানি নিয়ে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর ওপর আর্থিক চাপ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ