খুলনা | বৃহস্পতিবার | ০৮ অক্টোবর ২০২৬ | ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

রসায়নে নোবেল পেলেন ফরাসি ও জাপানি বিজ্ঞানী

খবর প্রতিবেদন |
০৪:১৯ পি.এম | ০৭ অক্টোবর ২০২৬

 

চলতি বছর রসায়নে নোবেল পুরস্কার জিতেছেন ফরাসি ও জাপানিজ দুই বিজ্ঞানী। তারা হলেন ফরাসি রসায়নবিদ হেনরি কাগন এবং জাপানি রসায়নবিদ কেনসো সোয়াই।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকেল পৌনে ৪টার দিকে রসায়নের ওই দুই নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্স বলেছে, জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অরৈখিক প্রভাব এবং অসমমিত সংশ্লেষণে স্বয়ংক্রিয় অনুঘটন প্রক্রিয়া আবিষ্কারের জন্য চলতি বছর হেনরি কাগন ও কেনসো সোয়াইকে রসায়নের নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

অ্যামিনো অ্যাসিডের মতো কিছু অণুর অস্তিত্ব আলাদা দুটি ভ্যারিয়েন্টে থাকে। যেগুলো একে অপরের প্রতিচ্ছবি। কিন্তু জীবদেহে একটি মাত্র প্রতিচ্ছবিই থাকে। এ ধরনের রাসায়নিক অসামঞ্জস্যতা কীভাবে তৈরি হলো, তা রসায়নবিদদের কাছে দীর্ঘদিন ধরে একটি রহস্য ছিল। আর এই রহস্য ভেদ করার জন্যই এ বছর এ দুই বিজ্ঞানীকে রসায়নে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

জীবনের রসায়নকে রসায়নবিদরা ‘হোমোকাইরাল’ বলেন, যা গ্রিক শব্দ “একই” এবং “হাত” থেকে এসেছে। হাতের মতো, সব অ্যামিনো অ্যাসিড দুটি আয়না রূপেই থাকে, কিন্তু এর মধ্যে কেবল একটি রূপই আপনার কোষের প্রোটিনে পাওয়া যায়। অন্যটি প্রকৃতিতে খুব একটা পাওয়া যায় না।

হোমোকাইরাল কীভাবে তৈরি হতে পারে, তা রসায়নবিদরা দীর্ঘকাল ধরে ভেবেছিলেন। যখন তারা এমন রাসায়নিক বিক্রিয়া নিয়ে পরীক্ষা শুরু করেন যা দুটি আয়না অণু তৈরি করতে পারে, তখন তারা টেস্টটিউবে সবসময় দুটির সমান পরিমাণই পেতেন। তবে রসায়নবিদরা কেবল একটি আয়না প্রতিবিম্ব তৈরি করার চেষ্টা করতেন; কারণ জীবন্ত প্রাণীদের সাথে মিথস্ক্রিয়া করবে এমন অণু তৈরির ক্ষেত্রে—যেমন ওষুধে—কেবল একটি প্রতিবিম্বই কাঙ্ক্ষিত ফল দেয়।

২০২৬ সালের রসায়নে নোবেল পুরস্কার এমন আবিষ্কারগুলোকে স্বীকৃতি দিয়েছে যা রসায়নবিদদের এমন রাসায়নিক বিক্রিয়া চালাতে সক্ষম করেছে যা হোমোকাইরাল রূপ তৈরি করে।

এর আগে, গত বছর রসায়নে নোবেল জেতেন তিন বিজ্ঞানী। তারা হলেন সুসুমু কিতাগাওয়া, রিচার্ড রবসন এবং ওমর এম ইয়াগি। ‘মেটাল অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্ক’ উদ্ভাবনের কারণে তাদের ওই বছর রসায়নে নোবেল দেওয়া হয় বলে জানায় সুইডিশ অ্যাকাডেমি।

এখন পর্যন্ত রসায়নে ১১৭ বার নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এ ক্যাটাগরিতে সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি হিসেবে ২০১৮ সালে ৯৭ বছর বয়সে নোবেল জেতেন জন বি গুডএনাফ। অপরদিকে ১৯৩৫ সালে মাত্র ৩৫ বছর বয়সে সম্মানজনক এ পদক জেতেন ফেদ্রিক জোলিয়ট। সব মিলিয়ে ১৯৮ জন এ রসায়নশাস্ত্রে সর্বোচ্চ সম্মানজনক এ পদক পেয়েছেন।

১৯০১ সাল থেকে দেওয়া হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার নোবেল। এ পুরস্কারটির নামকরণ করা হয়েছে সুইডিশ বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের নাম অনুসারে। ঊনবিংশ শতকের এই বিজ্ঞানী শক্তিশালী বিস্ফোরক ডিনামাইট আবিষ্কার করে বিপুল অর্থের মালিক হয়েছিলেন। তিনি উইল করে গিয়েছিলেন যে তার যাবতীয় অর্থ থেকে যেন প্রতি বছর পদার্থ, রসায়ন, চিকিৎসা, শান্তি ও সাহিত্য— এই ৫টি খাতে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তিদের পুরস্কার প্রদান করা হয়। এই পুরস্কারের নামকরণ হবে তার নামে। ১৯৬৯ সাল থেকে এই ৫ বিভাগের সঙ্গে যুক্ত হয় অর্থনীতিও।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ