খুলনা | শুক্রবার | ০৯ অক্টোবর ২০২৬ | ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সৌদির দুই বিমানবন্দরে হামলায় নিহত ৩, আহত ৩৬

খবর প্রতিবেদন |
০১:৪৬ পি.এম | ০৮ অক্টোবর ২০২৬


ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সৌদ আরবের আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এই হামলার ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩৬ জন। দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের বরাতে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

সংস্থাটি জানায়, মঙ্গলবার ও বুধবার পৃথক সময়ে দুই বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা ঘটে। আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় মরক্কো ও আলজেরিয়ার দুই নাগরিক নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৮ জন। আহতদের মধ্যে দুজন সৌদি নাগরিক এবং বাংলাদেশি ও ফিলিপাইনের নাগরিকও রয়েছেন। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।

হুতি বিদ্রোহী ও সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে গত প্রায় ৩ সপ্তাহ ধরে তীব্র সংঘাত চলছে। এই সংঘাত পরিস্থিতির মধ্যেই বুধবার সৌদির রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় হুতিরা

ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠীটর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারী বলেছেন, বিমান চলাচলের অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো ধারাবাহিক হামলার অংশ হিসেবেই সৌদি বিমানবন্দরগুলোতে এসব হামলা চালানো হয়েছে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইয়েমেনের লড়াই ম‚লত বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশের এলাকাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্য সীমিত হয়ে পড়ায় জ্বালানি রপ্তানির ক্ষেত্রে এই নৌপথটি আরও গুরুত্বপ‚র্ণ হয়ে উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বৃহত্তর সংঘাতের রেশ হিসেবে ছড়িয়ে পড়া এই লড়াই ইয়েমেনের দীর্ঘ ১২ বছরের জটিল গৃহযুদ্ধকে নতুন করে উসকে দিয়েছে। সেইসঙ্গে এ যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটের জন্ম দিয়েছে এবং বর্তমানে আরব বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র এ দেশটিকে খÐ-বিখÐ করে ফেলেছে।

ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম) বুধবার জানিয়েছে, লড়াইয়ের সর্বশেষ ধাপ, অর্থাৎ হুথিদের সঙ্গে ইয়েমেনি ও সৌদি-সমর্থিত সামরিক জোটের সংঘাত শুরুর পর থেকে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ২ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

সংস্থাটির মহাপরিচালক অ্যামি পোপ রয়টার্সকে বলেছেন, ‘মানুষ জীবন বাঁচাতে ছুটছে কিন্তু নিরাপদ কোনো আশ্রয় খুঁজে পাচ্ছে না।’ তিনি খাদ্য ও আশ্রয়ের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে আরও তহবিলের আহ্বান জানান।

জাতিসংঘের তথ্যমতে, ইয়েমেনের কিছু এলাকায় প্রতি চারটি পরিবারের মধ্যে তিনটিই খাদ্যসংকটের মুখে পড়েছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ