খুলনা | শুক্রবার | ২৩ অক্টোবর ২০২৬ | ৮ কার্তিক ১৪৩৩

সিজারের সময় পেটে গজ রেখে সেলাই, ৬ মাস পর নার্সের মৃত্যু

খবর প্রতিবেদন |
০৪:১৬ পি.এম | ০৮ অক্টোবর ২০২৬


ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় প্রসূতির পেটে গজ রেখে সেলাই দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে। এর প্রায় ছয় মাস পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ওই নারী। তার নাম বিথী আক্তার (২৫)। তিনি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের বাসিন্দা ও ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ নার্স।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেছেন তার স্বামী মো. রাকিবুল ইসলাম।

রাকিবুল গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তমিজ উদ্দিন মৃধার পাড়া এলাকার বাসিন্দা। গত ৬ মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার সিজারিয়ান সেকশন করা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের সময় তার পেটে গজ রেখে সেলাই করে দেওয়া হয়।

পরিবারের দাবি, অস্ত্রোপচারের পর থেকেই বিথী শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগতে থাকেন। অবস্থার অবনতি হলে প্রায় দুই মাস পর তাকে আবারও অস্ত্রোপচার করাতে হয়। পরে নাড়িতে জটিলতা দেখা দিলে তাকে আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বাইপাস সার্জারিসহ একাধিক জটিল চিকিৎসার পরও তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার কারণে ৬১ কেজি ওজনের বিথীর ওজন কমে ৩৮ কেজিতে নেমে আসে। নিজের নবজাতক সন্তানকে কোলে নেওয়া বা দুধ খাওয়ানোর অবস্থাতেও ছিলেন না তিনি।

এরপর ধীরে ধীরে অবস্থার অবনতি হতে থাকলে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ৪ অক্টোবর বিথীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

বিথীর স্বামী রাকিবুল ইসলাম বলেন, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেলে আমার স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টদের অবহেলার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে আমরা মনে করছি। এ ঘটনায় মামলা করব।

তিনি বলেন, আমাদের ছোট্ট শিশুটিকে এখন কীভাবে সামলাব, বুঝতে পারছি না। আর কোনো পরিবারের সঙ্গে যেন এমন ঘটনা না ঘটে, সেজন্য দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল হুদা বলেন, বিথীর মৃত্যুর খবরটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ঘটনায় তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত।

জেলা প্রশাসক এবং তিনি এর আগে বিথীর বাড়িতে গিয়ে তার শিশুসন্তানকে দেখেছেন বলেও জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ