খুলনা | শুক্রবার | ০৯ অক্টোবর ২০২৬ | ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মৃত্যুর আগে বন্ধুকে মেসেজ করেছিলেন নানা পাটেকর, শেষ রাতে কী ঘটেছিল?

খবর বিনোদন |
০৫:৪৬ পি.এম | ০৮ অক্টোবর ২০২৬


বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে গোয়ার বাসভবন থেকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয় বলিউডের শক্তিমান অভিনেতা নানা পাটেকরকে। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে চিকিৎসকদের চেষ্টার পর ভোরে মৃত ঘোষণা করা হয় তাকে।

নানা পাটেকরের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ বলিউড। তবে তার শেষ কয়েক ঘণ্টা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। কারণ, মৃত্যুর মাত্র চার দিন আগেও গোয়ার একটি অনুষ্ঠানে হাসি-আনন্দে সময় কাটিয়েছিলেন এই অভিনেতা। নাচ-গানেও অংশ নিয়েছিলেন। অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে জীবন ও নশ্বরতা নিয়েও কথা বলেছিলেন তিনি।

চিকিৎসকের বক্তব্য অনুযায়ী, মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে নিজের শারীরিক অসুস্থতা টের পেয়েছিলেন নানা। গোয়ার মণিপাল হাসপাতালের অঙ্কোলজি বিভাগের প্রধান চিকিৎসক শেখর সালকার জানিয়েছেন, রাত আড়াইটার দিকে কাছের এক বন্ধুকে মেসেজ করেছিলেন অভিনেতা।

ডা. সালকারের ভাষ্য, ওই মেসেজে নানা জানিয়েছিলেন যে তিনি ভালো বোধ করছেন না। কিন্তু গভীর রাত হওয়ায় তার বন্ধু তখন মেসেজটি দেখতে পাননি। পরে তাকে ফোন করেন। এরপর ভোর ৪টার দিকে নানার গোয়ার বাড়িতে পৌঁছান তিনি।

ততক্ষণে অভিনেতার শরীর ঘামতে শুরু করেছিল। পাশাপাশি দেখা দিয়েছিল আরও কিছু শারীরিক উপসর্গ। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রাথমিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কিন্তু এর মধ্যেই ধীরে ধীরে জ্ঞান হারাতে শুরু করেন নানা।

নানার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে তার বাড়ির পরিচারককে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করতে হাসপাতালে পাঠানো হয়। খবর পেয়ে মণিপাল হাসপাতাল থেকেও একটি জরুরি চিকিৎসক দল নানার বাড়িতে যায়। তবে চিকিৎসকরা পৌঁছানোর আগেই অভিনেতা পুরোপুরি অচেতন হয়ে পড়েছিলেন।

এরপরই তাকে সিপিআর দেওয়া হয়। কিন্তু তাতে সাড়া না পাওয়ায় ভোর ৪টা ২০ মিনিটের দিকে নানা পাটেকরকে মণিপাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পরও তাকে বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালান চিকিৎসকরা।

প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে কার্ডিয়াক ম্যাসাজ ও সিপিআর দেওয়া হয়। কিন্তু কোনো চেষ্টাতেই সাড়া দেননি নানা। ভোর ৫টা ২০ মিনিটের দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

নানা পাটেকর ওই হাসপাতালের নিবন্ধিত রোগী ছিলেন না। তাই তার মৃত্যুর ঘটনাটি ‘মেডিকো-লিগ্যাল’ মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি পুলিশকেও জানানো হয়েছে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য অভিনেতার মরদেহ গোয়া মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়।

চিকিৎসক শেখর সালকার জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই নানার মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

নানা পাটেকরের আকস্মিক প্রয়াণ আরও বিস্ময় তৈরি করেছে তার মৃত্যুর মাত্র চার দিন আগের কিছু মুহূর্তের কারণে। গোয়ার একটি অনুষ্ঠানে তখন বেশ প্রাণবন্ত ছিলেন তিনি। নাচ-গানের পাশাপাশি জীবন ও মৃত্যুর মতো বিষয় নিয়েও কথা বলেছিলেন। আর মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে সেই মানুষটির আকস্মিক চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছেন না তার ঘনিষ্ঠ ও ভক্তরা।

১৯৭৮ সালে ‘গমন’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় নানা পাটেকরের। পাঁচ দশকের ক্যারিয়ারে ‘পরিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘অগ্নিসাক্ষী’, ‘অপহরণ’, ‘রাজনীতি’, ‘ওয়েলকাম’সহ অসংখ্য সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, চারবার ফিল্মফেয়ার পুরস্কার ও পদ্মশ্রীসহ পেয়েছেন বহু সম্মাননা।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ