খুলনা | শুক্রবার | ০৯ অক্টোবর ২০২৬ | ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত অনুমোদন পেল রূপপুরের প্রথম ইউনিট

খবর প্রতিবেদন |
০৬:৫৩ পি.এম | ০৮ অক্টোবর ২০২৬


বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা) এ অনুমোদন দিয়েছে। এর ফলে রূপপুরের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ ও চূড়ান্ত ধাপে প্রবেশের পথ খুলেছে। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, চূড়ান্ত অনুমোদনের পর এবার চুল্লিতে প্রথমবারের মতো স্বয়ংসম্পূর্ণ চেইন রিঅ্যাকশন বা পরমাণুর বিভাজন তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হবে। এ ধাপকে ‘ক্রিটিক্যালিটি’ বলা হয়। এর মাধ্যমে চুল্লিতে ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রিত, স্থায়ী ও নিরাপদভাবে শক্তি উৎপাদনের কার্যক্রম শুরু হবে।

রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদনের আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার অধিকাংশই সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নির্দেশনা ও নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করে এসব পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ইউনিটের স্টেজ ‘বি ওয়ান’ মোটামুটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ পর্যায়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেমের পরীক্ষা ও যাচাই করা হয়। সর্বশেষ স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, সেটিও কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে।

এর পরের ধাপ স্টেজ ‘বি টু’। এ পর্যায়ে প্রাথমিক অপারেশনের জন্য পারমাণবিক চুল্লিকে প্রস্তুত করা হবে। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে শুরু হবে ‘ক্রিটিক্যালিটি’ বা চুল্লির স্বয়ংসম্পূর্ণ চেইন রিঅ্যাকশন।

পারমাণবিক চুল্লির এই পর্যায়ে পরমাণুর বিভাজনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিতভাবে শক্তি উৎপাদনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ধাপে ধাপে চুল্লির ক্ষমতা বাড়িয়ে নির্ধারিত পর্যায়ে নেওয়া হবে। পুরো প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

পর্যায়ক্রমে সফলভাবে চুল্লির উৎপাদনক্ষমতা ৩০০ মেগাওয়াটে পৌঁছালে জাতীয় সঞ্চালন গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা হবে। এরপর ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়িয়ে ইউনিটটির নির্ধারিত সক্ষমতায় নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়াকে দেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ