খুলনা | শনিবার | ১০ অক্টোবর ২০২৬ | ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

বিক্ষোভ ঘিরে থমথমে পরিস্থিতি

মোতায়েন ২৩ হাজার পুলিশ, মেট্রো পরিষেবা সীমিত-ট্রেন বাতিল; কী হতে যাচ্ছে দিল্লিতে?

খবর প্রতিবেদন |
০৬:২৬ পি.এম | ০৯ অক্টোবর ২০২৬


প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার (১০ অক্টোবর) যন্তর-মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রস্তাবিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে একাধিক বিধিনিষেধের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে দিল্লি। পুলিশ এই বিক্ষোভের অনুমতি না দেয়ায় বিরাজ করছে থমথমে পরিস্থিতি।

এদিকে মেট্রো পরিষেবায় বিধিনিষেধ এবং বেশ কয়েকটি ট্রেন বাতিল হওয়ার ফলে ভারতের রাজধানীজুড়ে যাত্রীরা ভোগান্তির মুখে পড়তে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া ২৩ হাজারেরও বেশি নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েনের মাধ্যমে দিল্লিতে এক অভূতপূর্ব নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

অনুমতি প্রত্যাখ্যান
দিল্লি পুলিশ বলছে, বিক্ষোভের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে কারণ ১০ দিন আগে বাধ্যতামূলকভাবে যে আগাম নোটিশ দেওয়ার কথা ছিল, তা পাওয়া যায়নি। কর্মকর্তারা আগের বিক্ষোভের সময় নির্দেশিকা লঙ্ঘনের অভিযোগও উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, মধ্য দিল্লির কিছু এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস)-এর ১৬৩ ধারা কার্যকর রয়েছে। বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে পুলিশ।

মধ্য দিল্লির সংবেদনশীল এলাকার দিকে বিক্ষোভকারীদের সম্ভাব্য অগ্রসর হওয়া নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই এই পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে যন্তর-মন্তর ও নিউ দিল্লি জেলার আশপাশের এলাকাও অন্তর্ভুক্ত।

৫৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ
১০ অক্টোবর প্রস্তাবিত বিক্ষোভ কর্মসূচি এবং সংবেদনশীল এলাকাগুলোর দিকে জনসমাগম এগিয়ে আসার আশঙ্কার পরিপ্রেক্ষিতে ৫৭টি মেট্রো স্টেশনে বিধিনিষেধ ঘোষণা করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৯ অক্টোবর শুক্রবার রাত ৯টা থেকে সংশ্লিষ্ট স্টেশনগুলোর প্রবেশ ও প্রস্থান পথ বন্ধ থাকবে।

সংশ্লিষ্ট স্টেশনগুলোর মধ্য দিয়ে চলাচলকারী মেট্রো ট্রেনগুলোও কম চলবে।

এই বিধিনিষেধের ফলে গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারচেঞ্জ স্টেশন ও নিত্যযাত্রীদের ব্যবহৃত রুটসহ শহরের বিভিন্ন অংশে চলাচল ব্যাহত হতে পারে। যাত্রীদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যেন তারা যাত্রা শুরুর আগে পরিষেবাসংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য জেনে নেন।

ট্রেন বাতিল
প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রেল পরিষেবাও ব্যাহত হয়েছে। নয়াদিল্লি ও হযরত নিজামুদ্দিন রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছানোর কথা ছিল, এমন বেশ কয়েকটি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।

শনিবার ভোর ৪টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে পৌঁছানোর কথা ছিল, এমন ট্রেনগুলোর ক্ষেত্রে এই বাতিলাদেশ প্রযোজ্য। সংশ্লিষ্ট ট্রেনগুলোকে তাদের যাত্রারম্ভের স্টেশন থেকেই বাতিল করা হয়েছে।

যাত্রীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যেন তারা রেলওয়ে স্টেশনের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে ট্রেনের বর্তমান অবস্থা যাচাই এবং হালনাগাদ তথ্য জেনে নেন।

কঠোর নিরাপত্তা
সূত্রের বরাতে এনডিটিভি বলছে, দিল্লিতে মোট ২৩ হাজার কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৮ থেকে ১২ অক্টোবরের মধ্যে ২২১টি সিএপিএফ কোম্পানি মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে; এর বাইরেও দিল্লি পুলিশকে অতিরিক্ত ১১০টি সিএপিএফ কোম্পানি দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) ৮৫টি কোম্পানি, সশস্ত্র সীমা বলের (এসএসবি) ১০টি, ইন্দো-তিব্বত বর্ডার পুলিশের (আইটিবিপি) সাতটি, র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের (আরএএফ) সাতটি এবং সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্সের (সিআইএসএফ) একটি কোম্পানি।

তারা জানান, সেখানে একাধিক স্তরের ব্যারিকেড বা নিরাপত্তা বেষ্টনী থাকবে এবং কন্ট্রোল রুম থেকে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি চালানো হবে। কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, রাজধানীজুড়ে ‘ফেস রিকগনিশন সিস্টেম’ প্রযুক্তির ক্যামেরা বসানো হবে।

এছাড়া উত্তর প্রদেশ ও হরিয়ানাসহ পার্শ্ববর্তী সব রাজ্যকে বিক্ষোভ চলাকালে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি

প্রিন্ট

আরও সংবাদ