খুলনা | শনিবার | ১০ অক্টোবর ২০২৬ | ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

ছিন্নমূল মানুষের সাথে মাটিতে বসে খাবার খেলেন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

মোংলা প্রতিনিধি |
০৭:১৭ পি.এম | ০৯ অক্টোবর ২০২৬


কোনো প্রকার প্রটোকল বা রাজকীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, মোংলায় একদম সাধারণ ও ছিন্নমূল মানুষের কাতারে সামিল হলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে জুমার নামাজ শেষে স্থানীয় যুব সমাজের ব্যতিক্রমী আয়োজন ‘এক বেলার মেহমান খানা’য় আকস্মিকভাবে উপস্থিত হয়ে তিনি মাটিতে বসে দুপুরের খাবার খেয়েছেন। প্রতিমন্ত্রীর দেখাদেখি তাঁর সফরসঙ্গী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমীন আক্তার সুমী, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারাও মাটিতে বসে অসহায় সাধারণ মানুষের সাথে খাবার গ্রহণ করে এক অনন্য নজির স্থাপন করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোংলা পোর্ট পৌরসভা ও আশেপাশের গ্রাম এলাকার অসহায়, দুস্থ, ভিক্ষুক ও ছিন্নমূল মানুষের মুখে সপ্তাহে অন্তত একবেলা পুষ্টিকর ও ভালো মানের খাবার তুলে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে স্থানীয় যুব সমাজ। সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়ন, ব্যাবসায়ী ও বন্ধু বান্ধরের সহযোগীতায় এবং স্বেচ্ছাশ্রমে গত এক বছর ধরে প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের পর এই ‘এক বেলার মেহমান খানা’র আয়োজন করে আসছিল।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) মোংলায় সরকারের পূর্বনির্ধারিত কিছু প্রশাসনিক কর্মসূচি পালন শেষে প্রতিমন্ত্রী ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম যুবকদের এই মানবিক উদ্যোগের কথা শুনতে পান। খবর পেয়েই তিনি কোনো প্রকার দ্বিধাবোধ না করে সরাসরি মেহমান খানার অনুষ্ঠানস্থলে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে রাজকীয় চেয়ার-টেবিল পরিহার করে মাটিতে চট বিছিয়ে বসে থাকা ক্ষুধার্ত ছিন্নমূল মানুষদের পাশে গিয়ে তাদের খোজ খবর নেন এবং সাধারণের মতোই তাদের পাশে বসে পড়েন।

প্রতিমন্ত্রীকে একজন সাধারণ মানুষের মতো মাটিতে বসে পড়তে দেখে ক্ষণিকের জন্য উপস্থিত সবাই হতবাক হয়ে যান। সাথে সাথে তাঁর প্রটোকলে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আক্তার সুমী, সহকারী কমিশনার (ভূমি), মোংলা থানার পুলিশ কর্মকর্তা এবং সাথে থাকা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনিসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরাও মাটিতে বসে দুপুরের খাবার খেতে শুরু করেন।

খাবার গ্রহণ শেষে পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের এই জাঁকজমকপূর্ণ সমাজের অন্তরালে এখনো বহু অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষ রয়েছে, যারা দুমুঠো অন্ন জোগাতে হিমশিম খায়, একবেলা ভালো ভাবে খেতেও পারে না। এই অবহেলিত মানুষগুলোকে সপ্তাহে অন্তত এক দিন এক বেলা ভালো খাবার খাওয়ানোর যে উদ্যোগ স্থানীয় যুব সমাজ নিয়েছে, তা অত্যন্ত মহতী ও প্রশংসনীয়।

তিনি আরও বলেন, আমি এই অসাধারণ উদ্যোগের কথা শুনেই লোভ সামলাতে না পেরে এখানে দেখতে চলে আসলাম এবং তাদের আনন্দের অংশীদার হলাম। সমাজ থেকে বৈষম্য দূর করতে এই ধরণের মানবিক কাজে বিত্তবানসহ সমাজের সকলের এগিয়ে আসা উচিত। এর মধ্য দিয়ে সামাজিক সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় ও অটুট থাকে এবং আমরা সকলেই একে অপরের সুখ-দুঃখের প্রকৃত সাথী হতে পারি।

এলাকার অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষদের সাথে প্রতিমন্ত্রীর এমন নিরহংকার, আন্তরিক ও মানবিক আচরণ দেখে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও সুধী সমাজ তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, একজন মন্ত্রী হয়েও সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট অনুভব করে তাদের সাথে মাটিতে বসে খাবার খাওয়ার এই চমৎকার দৃশ্য মোংলার সামাজিক সম্প্রতিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ