খুলনা | শনিবার | ১০ অক্টোবর ২০২৬ | ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

পাবিপ্রবিতে সাত ছাত্রী র‌্যাগিংয়ের শিকার, একজন হাসপাতালে

খবর প্রতিবেদন |
০১:৫৭ এ.এম | ১০ অক্টোবর ২০২৬


পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) একটি ছাত্রী হলের কক্ষে সাতজন জুনিয়র ছাত্রী র‌্যাগিংয়ের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আনিকা আফরিন নামে এক ছাত্রী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীদের বর্ণনা অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘গণতন্ত্র হল’-এর ১০৩৬ নম্বর কক্ষে ঘটনাটি ঘটে। অসুস্থ আনিকা আফরিন বিশ্ববিদ্যালয়টির ইনফরমেশন এ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিই) বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পিকনিকের আলোচনার কথা বলে জুনিয়র ব্যাচের কয়েকজন ছাত্রীকে ওই কক্ষে ডাকা হয়। কিন্তু কক্ষে ঢোকার পর সিনিয়ররা নানা বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ, গালাগাল ও কুরুচিপূর্ণ ব্যক্তিগত প্রশ্ন শুরু করেন। একপর্যায়ে জোর করে মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমের বার্তা ও ফ্রেন্ড লিস্ট পরীক্ষা করা হয়। দীর্ঘক্ষণ মানসিক নির্যাতনের মুখে দুই শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আনিকা আফরিন বলেন, ‘ডেকে নিয়ে সিনিয়ররা ধমকাধমকি শুরু করেন। আমাকে ১০টি ভিন্ন প্রজাতির চতুষ্পদ প্রাণীর মতো ডাক দিতে বাধ্য করেন। ক্যাম্পাসের লেকে বা রিডিং রুমে কেন যাই এবং ছেলেদের সঙ্গে কথা বলি কেন-জানতে চাওয়া হয়। মোবাইল কেড়ে নিয়ে কাউকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছি কিনা তা দেখা হয়। মানসিক চাপে একপর্যায়ে আমার ঘাড়ের রগে টান অনুভব করি। আমার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্য আরেকজন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, আনিকা অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাকে অবিলম্বে হাসপাতালে নেওয়ার আবেদন জানানো হলেও সিনিয়ররা প্রথমে তাতে সাড়া দেননি। শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে জুনিয়ররা কান্নাকাটি শুরু করেন। এর এক ঘণ্টারও পর আনিকাকে হাসপাতালে পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের সামিহা, ঊর্মি, নিশাত, শ্রেয়া, মিম, মারিয়া, আফিয়া, ফারজানা ও ইফতি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তাদের সঙ্গে শুক্রবার একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।  
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক কামরুজ্জামান খান বলেন, পাবিপ্রবি প্রশাসন র‌্যাগিংয়ের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে র‌্যাগিং কোনো ভাবেই বরদাশত করা হবে না। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ