খুলনা | শনিবার | ১০ অক্টোবর ২০২৬ | ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

এমপি-নেতাদের তদবিরের চাপ উপেক্ষা

অবশেষে শতভাগ স্বচ্ছতায় ৫৩ জেলায় সারের ডিলার নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি

খবর প্রতিবেদন |
০২:০০ এ.এম | ১০ অক্টোবর ২০২৬


তদবিরের চাপ উপেক্ষা করে অবশেষে শতভাগ স্বচ্ছতায় সারের ডিলার নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করতে পেরেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার রাতে মোট ৫৩টি জেলায় ডিলার নিয়োগের তালিকা বা চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। প্রত্যেকটি জেলার জেলা প্রশাসক অর্থাৎ ‘জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি’র সভাপতি বরাবর প্রজ্ঞাপন বা চিঠিগুলো ইস্যু করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই ডিলার নিয়োগে শতভাগ স্বচ্ছতার নীতি অনুসরণ করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের পাঠানো জেলা কমিটির সুপারিশের কোনো রকমের হেরফের করা হয়নি। সুপারিশের এক নম্বর ব্যক্তিকেই ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, ৫৩টি জেলায় মোট প্রায় ৪ হাজার ডিলার নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে বৃহস্পতিবার। বাকি ১১টি জেলায়ও শিগগিরই ডিলার নিয়োগের তালিকা প্রকাশ করা হবে।
অস্থায়ীভাবে নিয়োগকৃত এসব ডিলারের কারো বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে তদন্তের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে ডিলারশিপ বাতিল করা হবে।
মন্ত্রণালয়ের কৃষি অর্থনীতিবিদ শাহনাজ আক্তারের স্বাক্ষরে এই প্রজ্ঞাপনগুলো জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন চূড়ান্ত হওয়ার পরও দুই দিন ধরে যাচাই-বাছাই করে দেখা হয়েছে, যাতে কোনো রকমের ভুলত্র“টি না থাকে।
মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত তালিকা অনুযায়ী ‘জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি’র সভাপতি অর্খাৎ জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট ডিলারদের অনুকূলে ডিলারশিপের সার্টিফিকেট ইস্যু করবেন।
নিয়োগকৃত ডিলারদের বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে মোট তিনটি শর্ত দেওয়া হয়েছে। (ক) এই ডিলারশিপ অস্থায়ীভাবে প্রদান করা হবে। ডিলারশিপ প্রদানের তারিখ থেকে ৩ মাস সংশ্লিষ্ট ডিলারের কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হবে।
সার ডিলার হিসেবে কার্যক্রম সন্তোষজনক প্রতীয়মান হলে পরবর্তীতে ডিলারশিপ স্থায়ী করা হবে; (খ) ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা ২০২৬’ এর অনুচ্ছেদ ও উপানুচ্ছেদ ২.০, ৩.০, ৫.০, ৭.০ এবং ৮.০ এ বর্ণিত সংশ্লিষ্ট শর্তাবলী ও নির্দেশনাসমূহ যথাযথভাবে প্রতিপালিত হয়েছে মর্মে নিশ্চিত হয়ে বর্ণিত আবেদনকারীদের অনুকূলে ডিলারশিপ প্রদান করতে হবে; (গ) ডিলার নিয়োগ ও বাতিলের বিষয়ে সার ডিলার সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হবে।
সারের ডিলারশিপ নিয়োগ নিয়ে গত কিছুদিন ধরে সারাদেশ থেকে সরকারি দলের প্রভাবশালী নেতা ও সংসদ সদস্যদের তদবিরের চাপ ছিল প্রচণ্ড। কিন্তু কৃষি মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে কোনো রকমের অনিয়ম বা মাঠ পর্যায়ের সুপারিশের হেরফের না করার সিদ্ধান্তে অটল থাকে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও চাচ্ছিলেন, এই ডিলার নিয়োগে যাতে কোনো রকমের অনিয়ম না হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী কৃষি মন্ত্রণালয় মাঠ পর্যায়ের তালিকার এক নম্বর ব্যক্তিকেই ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এবং সেই অনুযায়ী প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
উল্লেখ্য, সারাদেশে ৪ হাজার ৯৩১টি নতুন সার ডিলার নিয়োগের বিপরীতে মোট ৪৬ হাজার ৯৫৫টি আবেদন জমা পড়েছে। অর্থাৎ প্রতি ডিলারশিপের বিপরীতে গড়ে প্রায় ১০টি আবেদন পড়েছে। ২০২৬ সালের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী ডিলার নিয়োগের জন্য আবেদন শুরু হয় ১৯ আগস্ট এবং বর্ধিত সময়সীমা অনুযায়ী আবেদনের শেষ তারিখ ছিল গত ১০ সেপ্টেম্বর।
প্রথমে আবেদনপত্রগুলো জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি যাচাই-বাছাই করেছে। যাচাই শেষে দুই কার্যদিবসের মধ্যে আবেদনপত্র উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির কাছে পাঠানো হয়। উপজেলা কমিটি তথ্য যাচাই করে বিধিমালা অনুযায়ী প্রতি ইউনিয়নের জন্য তিনজন যোগ্য প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করে। এরপর উপজেলা কমিটির প্রস্তাবিত প্রত্যেক প্রার্থীর তথ্য জেলা কমিটি আবার যাচাই করে। যাচাই শেষে প্রতি ইউনিয়নের জন্য তিনজন প্রার্থীর প্রস্তাব সার ডিলার সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে পাঠানো হয়। কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটির যাচাই-বাছাইয়ের পর ৫৩ জেলার ডিলারশিপের প্রজ্ঞাপন জারি করা হলো।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ