খুলনা | শনিবার | ১০ অক্টোবর ২০২৬ | ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের আরও বিক্ষোভের পরিকল্পনা, উদ্বেগ জাতিসংঘের

খবর প্রতিবেদন |
০২:০১ এ.এম | ১০ অক্টোবর ২০২৬


শিক্ষার উন্নত পরিবেশের দাবিতে কয়েক দিনের টানা বিক্ষোভের পর শুক্রবার ফ্রান্সের শিক্ষার্থীরা তাদের শ্রেণিকক্ষে ফিরতে শুরু করেছে। তবে শিক্ষার্থীরা আগামী সপ্তাহে আরও ব্যাপক আকারে বিক্ষোভের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে, মাঝে মাঝে ঘটে যাওয়া সহিংস সংঘর্ষের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে শিক্ষার্থীরা হাইসউলের প্রবেশপথগুলো অবরুদ্ধ করা শুরু করলে ফ্রান্সজুড়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থী রাস্তায় নেমে আসে, যা নিয়ন্ত্রণে দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করতে হয়েছিল।
বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা যাদের অধিকাংশের বয়স ১৫ থেকে ১৮ বছর—শিক্ষকদের অনুপস্থিতি, অতিরিক্ত ক্লাসের চাপ, জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষ এবং ক্রমশ বাড়তে থাকা তাপমাত্রা সহ্য করতে না পারা ভবনের অবস্থা নিয়ে অভিযোগ তোলে।
ফ্রান্সের বিচার মন্ত্রণালয় শুক্রবার জানিয়েছে, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে ৬ হাজার ৮০০ জনেরও বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৮৬ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।
অন্যদিকে, জাতিসংঘ শুক্রবার জানায়, তারা ‘উদ্বেগের সাথে’ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সব পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানাচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থার মুখপাত্র শাবিয়া মান্টু বলেন, ‘ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ এবং হাইস্কুল অবরোধ সংক্রান্ত যেসব ঘটনা সহিংস রূপ নিয়েছে, আমরা তা উদ্বেগের সাথে পর্যবেক্ষণ করছি।’ বেশির ভাগ বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ হলেও কিছু আন্দোলনকারী রাস্তায় আগুন ধরিয়ে দেয় এবং বাস স্টপ ভাঙচুর করে।
এর জবাবে পুলিশ টিয়ার গ্যাস, লাঠি এবং ব্লাস্ট বল (বিশেষ ধরনের গ্রেনেড) ব্যবহার করে। এর ফলে মানবাধিকার গোষ্ঠী এবং শিক্ষার্থীরা পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের অভিযোগ আনে। এসব অপকর্মের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাদের নিজেদের ১৮টি অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে।
গত সোমবার পুলিশের একটি স্টান গ্রেনেড বিস্ফোরণে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর তার হাত হারায়। এর পর সরকার এই অস্ত্রের ব্যবহার স্থগিত ঘোষণা করে।
রাজধানী প্যারিসে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পুলিশ জানায়, কিছু ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি ছত্রভঙ্গ করতে তারা বাস্তিল স্কোয়ারে টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করেছে।
অসন্তোষ শান্ত করার প্রচেষ্টায় শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার্দ জফ্রে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঘোষণা করেন যে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ১১৪টি হাইস্কুলে অনুপস্থিত কর্মীদের স্থলাভিষিক্ত করতে আগামী দিনগুলোতে প্রায় ৩ হাজার বিকল্প শিক্ষক নিয়োজিত করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী সেবাস্টিয়ান লেকনর্ত অক্টোবরের শেষের মধ্যে সংকট সমাধানের জন্য একটি পরিকল্পনার প্রতিশ্র“তি দিয়েছেন। অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী রোল্যান্ড লেসকিউর বলেছেন, অতিমাত্রায় নিয়ন্ত্রিত ২০২৭ সালের বাজেটের মধ্যেও স্কুলের সম্পদ বৃদ্ধির দাবিগুলো পূরণ করার সুযোগ রয়েছে।
বর্তমান খসড়া বাজেটে প্রতিরক্ষার পর শিক্ষা খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অর্থায়ন বৃদ্ধি পেয়েছে-যার পরিমাণ ১.৪ শতাংশ বেড়ে ৯০.৯ বিলিয়ন ইউরোতে দাঁড়িয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ফ্রান্সের মোট ৩,৭০টি হাইস্কুলের (যাকে 'লিসি' বলা হয়) মধ্যে শুক্রবার মাত্র ১৪১টি স্কুল বন্ধ ছিল। গত শুক্রবার বিক্ষোভের কারণে প্রায় ৮০০টি স্কুল বন্ধ ছিল।
তবে অনেক শিক্ষার্থী এএফপিকে জানিয়েছে, তারা পিছিয়ে আসছে না; আগামী সপ্তাহে আরও বড় ধরনের আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন আয়োজকরা।
তুলুস শহরের ১৬ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী বলে, ‘আমরা আগামী সপ্তাহের জন্য আমাদের শক্তি বাঁচিয়ে রাখছি।’
মার্সেই শহরের অ্যালিস নামের এক হাইস্কুল শিক্ষার্থী বলে, শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণাগুলো একটি প্রথম পদক্ষেপ, কিন্তু এগুলোই যথেষ্ট নয়।
আগামী মঙ্গলবার আন্দোলনের নতুন কর্মসূচির ডাক দিয়ে শিক্ষার্থী ইউনিয়নের প্রতিনিধি মারিয়াস মেসনিল বলেন, ‘আমাদের কেবল কিছু ছিটেফোঁটা সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।’

প্রিন্ট

আরও সংবাদ