খুলনা | শনিবার | ১০ অক্টোবর ২০২৬ | ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

মেহেরপুর সীমান্তে ৪ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় পিছু হটল বিএসএফ

মেহেরপুর প্রতিনিধি |
০২:১১ এ.এম | ১০ অক্টোবর ২০২৬


মেহেরপুরের গাংনীর শেওড়াতলা সীমান্ত দিয়ে দুইজন পুরুষ, এক নারী ও এক শিশুসহ চারজনকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সতর্ক অবস্থান ও স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে ওই চারজনকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয় বিএসএফ। শুক্রবার ভোররাতে গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়নের শেওড়াতলা সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। 
বিজিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ভোর আনুমানিক ৩টার দিকে ৪৭ বিজিবির অধীন গাংনীর শেওড়াতলা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ১৪৪/৪-এস-এর কাছাকাছি এ ঘটনা ঘটে। ভারতের ১১ ব্যাটালিয়ন বিএসএফ’র বিজয় মাঠপাড়া ক্যাম্পের সদস্যরা দুই পুরুষ, এক নারী ও এক শিশুসহ চারজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশইন) চেষ্টা করেন। তবে আগে থেকে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্য এবং সীমান্তে বিজিবির টহল দলের সতর্ক অবস্থানের কারণে বিষয়টি দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হয়। পরে শেওড়াতলা বিওপির বিজিবি টহল দল স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় বিএসএফ’র ওই প্রচেষ্টা প্রতিহত করে। বিজিবির বাধার মুখে শুক্রবার সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে সীমান্তের ১০৪ নম্বর গেট দিয়ে ওই চারজনকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায় বিএসএফ’র সদস্যরা। এ ঘটনার পর বিজিবি ও বিএসএফ’র কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পুাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএসফ’র এ ধরনের অনাকাক্সিক্ষত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানায় বিজিবি। পাশাপাশি ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক পর্যায়ে বিএসএফ’র কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদলিপি পাঠানোর কার্যক্রম চলছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, সীমান্তে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্তে নজরদারি জোরদার রাখা হয়েছে। শেওড়াতলা সীমান্তে পুশইনের চেষ্টার বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পরপরই টহল দল প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়। স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় বিএসএফ’র ওই চেষ্টা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। সীমান্তে এ ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা কোনো ভাবেই কাম্য নয়। বিষয়টি পতাকা বৈঠকে উত্থাপন করে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদলিপি পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও যে কোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করতে বিজিবি পেশাদারত্ব, সতর্কতা ও দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ