খুলনা | রবিবার | ১১ অক্টোবর ২০২৬ | ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী তাজমিনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে অটোরিকশা চালক সুমনই, আদালতে দায় স্বীকার

খবর প্রতিবেদন |
০২:৩৩ এ.এম | ১১ অক্টোবর ২০২৬


কুমিল্লার লালমাইযয়ে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার অটোরিকশাচালক সুমন আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিযয়েছেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে কুমিল্লা জেলা কারাগারে পাঠানো হযয়েছে।
শনিবার বিকেল সাডয়ে তিনটায় কুমিল্লা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ৬ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মমিনুল হকের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার জন্য সুমনকে হাজির করা হয়। সেখানে কয়েক ঘণ্টা পর তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
কুমিল্লা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক সাদেকুর রহমান বলেন, বিচারক মমিনুল হকের কাছে আসামি সুমন হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিযয়েছেন। পরে শনিবার রাত সাতটা ২০মিনিটে তাকে কুমিল্লা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে শনিবার সকালে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া জানান কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনকে বহনকারী অটোরিকশাচালক সুমনই তাকে দিকভ্রান্ত করে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। ।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাজমিন সুমন নামের ওই সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালককে কুমিল্লা রেসকোর্স নামিয়ে দেওয়ার জন্য ভাড়া করে। এ সময় অটোরিকশা চালকের মনে দুষ্ট চিন্তা ভর করে। পদুয়ার বাজার থেকে শহরের দিকে না নিয়ে অটোরিকশাচালক তাজমিনকে নিয়ে বিজরার দিকে চলে যান। দীর্ঘ সময় ধরে এদিক-সেদিক ঘুরিয়ে তাকে লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার নির্জন রাস্তায় নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় ভিকটিম তাজমিন ও অটোরিকশাচালক সুমনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এক পর্যায়ে অটোরিকশাটি ধানখেতে কাত হয়ে পড়ে যায়। ভিকটিম দৌড়ে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করে, তবে সে দুর্বল হয়ে পড়ে। পরে তাকে কাবু করে ফেলেন সুমন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে সুমন ভিকটিমকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেচিয়ে তাজমিনকে হত্যা করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পাশের এলাকার একটি পুকুরে গিয়ে গোসল করেন। যাওয়ার সময় ভিকটিমের ভ্যানেটি ব্যাগ থেকে আইফোন নিয়ে যান। আইফোনটি একটি ধানখেতে লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামের দিকে চলে যান।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে ফেলে যাওয়া সিএনজিচালিত অটোরিকশাটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ধরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তে সুমনকে চট্টগ্রাম নগরীর একটি এলাকা থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় ডিবি পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কর্মকর্তা পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। জবানবন্দি দেবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা তাকে আদালতে তুলব। তোলার পর বোঝা যাবে।
সংবাদ সম্মেলনে লালমাই থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান, গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) পবিত্র সরকার, উপ-পরিদর্শক অর্ণবসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগণপুর গ্রামের ধানখেত থেকে জান্নাতুল তাজমিন (১৪) নামের এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়াতলা গ্রামের আব্দুল আলিমের মেয়ে। সে কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। চলতি বছরের ফেব্র“য়ারি থেকে সে আর স্কুলে যায়নি বলে জানিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা রিজিয়নে চাকরি করছেন। তারা কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। গত ৪ অক্টোবর সকালে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয় তাজমিন। 
গত বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত ১২টা ১৯ মিনিটের সময় তাকে সবশেষ কুমিল্লার হোটেল নূরজাহানের সামনে দেখা গেছে। ওইদিন রাত ২টা ৫৮ মিনিটে বাবার হোয়াটসঅ্যাপে তার লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাকে নিয়ে যেতে বলে একটি বার্তা দেয়। তখন বাবা ঘুমিয়ে থাকায় সে বার্তাটি দেখতে পাননি তিনি। পরদিন সকালে অজ্ঞাত হিসেবে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পরিচয় শনাক্ত হয়। মরদেহের পাশে পড়ে থাকা সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করে পুলিশ। ঘটনার পর নিহত তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ