খুলনা | সোমবার | ১২ অক্টোবর ২০২৬ | ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

অসুস্থ নগর ছাত্রদল নেতা সাইফুলের পাশে তারেক রহমান, দায়িত্ব নিলেন চিকিৎসার

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০৫:৩৪ পি.এম | ১১ অক্টোবর ২০২৬


খুলনা মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক খান সাইফুল ইসলামের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন বিএনপি’র চেয়ারম্যান ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার  রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে পরিচালক অধ্যাপক ডাঃ মোঃ নুরুজ্জামান খানের অধীনে খান সাইফুলকে ভর্তি করা হয়।
স¤প্রতি নগরীর সন্ধানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় খান সাইফুলের একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। এরপর তিনি তাঁর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে সাইফুলের চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণসহ সার্বিক খোঁজখবর নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংযুক্ত অধ্যাপক ডাঃ শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহর তত্ত¡াবধানে খান সাইফুলের চিকিৎসার কার্যক্রম শুরু হয়।
খান সাইফুল বলেন, ২০১৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হরতালের আগের দিন মিছিল করে বাসায় ফেরার পথে মডার্ন ফার্নিচারে সামনে পুলিশ আমাকে আটক করে। এ সময় ৪-৫ জন পুলিশ আমাকে প্রায় শতাধিক লাঠিচার্জ করে। এমনকি থানায় নিয়েও আমাকে লাঠিচার্জ করা হয়। এরপর থেকেই মূলত আমার মেরুদন্ড হাড়ে সমস্যা দেখা দেয়। আমি আযম খান সরকারি কমার্স কলেজ থেকে ছাত্র রাজনীতি ২০০৯ সালে শুরু করি। কলেজের ছাত্রদলের কমিটির  সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক ছিলাম। মহানগর ছাত্রদলের কমিটিতে ছিলাম একাধিকবার। সর্বশেষ মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম-আহবায়ক ছিলাম। বিভিন্ন সময়ে নয়টি মামলায় হয়েছে আমার বিরুদ্ধে। তিনবার জেল হাজতে ছিলাম প্রায় চার মাসের বেশি সময়। লেখাপড়ার পাশাপাশি সংসার চালানোর জন্য ব্যবসা শুরু করেছিলাম। তবে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের অত্যাচারে সেই ব্যবসা আমাকে হারাতে হয়েছে। এমনকি কমার্স কলেজে লেখাপড়া শেষ করতে পারিনি। বর্তমানে আমি বেকার অবস্থায় আছি। আমার বাবা ও ভাই পিরোজপুরে থাকে তারাও রাজনীতি সাথে জড়িত। আমি আমার বাবার কাছ থেকে মূলত রাজনীতি শিখেছি। তারেক রহমানের নির্দেশে একাধিকবার রাজপথে নেমেছি। গত ৪ অক্টোবর অসুস্থ হয়ে খুলনার সন্ধানী ক্লিনিকে ভর্তি হই। সেখানে আমি একটি লাইভ করেছিলাম। যেটি দেশনায়ক তারেক রহমানের নজর এসেছে।  আমার কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে থেকে ফোন করা হয়েছিল। খুলনার নেতারাও আমাকে ফেসবুকে লাইভ করার পর সহযোগিতা করেছে। 
তিনি আরও বলেন, আমাকে একাধিক বার ফোন দিয়েছেন কেন্দ্রীয় ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক, খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য এবং জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল। তার সহযোগিতায় খুলনা থেকে ঢাকায় এসেছি। খুলনার ক্লিনিকের বিলদিয়া থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত তিনিই তত্ত্বাবধান করছেন। প্রধানমন্ত্রী রহমানের নির্দেশে রকিবুল ইসলাম বকুল ভাইয়ের সহযোগিতায় আমি এখন চিকিৎসাধীন আছি। 
প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার (খান সাইফুল) দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যে সকল ছাত্র নেতা সহ সকল অঙ্গ সংগঠনের নেতারা নির্যাতনের শিকার হয়েছিল চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক। 
সাইফুলের চিকিৎসার বিষয়ে অধ্যাপক ডাঃ মোঃ নুরুজ্জামান খান জানান, আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হবে। তাঁর চিকিৎসার কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন এ্যানেসথেশিয়া বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এ জেড এম সাইফউদ্দিন, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্যসচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন (মিথুন), ড্যাবের আইন বিষয়ক সম্পাদক ডাঃ এম আর হাসান, আবাসিক চিকিৎসক ডাঃ মোঃ মাজহারুল ইসলাম, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসনাইন নাহিয়ান সজীব, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের আহবায়ক ডাঃ জহিরুল ইসলাম, ছাত্রদল নেতা মশিউর রহমান মহান এবং শেকৃবি ছাত্রদল নেতা শোআইব ইসলাম প্রমুখ।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ