খুলনা | সোমবার | ১২ অক্টোবর ২০২৬ | ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

বার্লিনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে যাচ্ছেন না ড. ইউনূস, অংশ নিচ্ছেন জোবাইদা রহমান

খবর প্রতিবেদন |
০১:৫৩ এ.এম | ১২ অক্টোবর ২০২৬


জার্মানির রাজধানী বার্লিনে তিন দিনের বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলন শুরু হয়েছে রোববার। অনুষ্ঠানে সাবেক অন্তর্বতী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তিনি সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন না বলে জানা গেছে। এতে অংশ নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডাঃ জোবাইদা রহমান। বাংলাদেশ থেকে এই দুই অতিথির রোববার ও সোমবার দু’টি অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার কথা উদোক্তারা জানিয়েছিল। তবে শেষ মুহূর্তে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সম্মেলনে যোগ না দেওয়ার কথা জানানো হয়।
‘ওয়াল্ড হেলথ সামিট ২০২৬’-এ এবারের প্রতিপাদ্য ‘সংকট থেকে স্থিতিস্থাপকতা: স্বাস্থ্যের জন্য উদ্ভাবন।’ বৈশ্বিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার বর্তমান সংকট, ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ এবং নতুন সম্ভাবনা নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক, বিজ্ঞানী, চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী, নাগরিক সমাজ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা এই বছর আবারও বার্লিনে সমবেত হচ্ছেন। মঙ্গলবার পর্যন্ত চলবে এই সম্মেলন। 
বিশ্ব স্বাস্থ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মতবিনিময় ও সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত এ সম্মেলন প্রতি বছর আয়োজিত হয়। বিজ্ঞান, রাজনীতি, অর্থনীতি ও নাগরিক সমাজের মধ্যে সংলাপ এবং সহযোগিতার মাধ্যমে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধান খোঁজাই এর মূল লক্ষ্য। সম্মেলনটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি ও নাগরিক সমাজের সংগঠনের সঙ্গে কাজ করে।
তিন সপ্তাহ আগে ইউরোপের পাঁচটি আন্তর্জাতিক সংগঠন বাংলাদেশের হাম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এই সম্মেলনে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের অংশগ্রহণ পুনর্বিবেচনার দাবিতে স্মারকলিপি ও একটি পিটিশন পাঠিয়েছিল। পিটিশনটি যৌথভাবে দাখিল করেছিল সাউথ এশিয়া ডেমোক্রেটিক ফোরাম, বেলজিয়াম, ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ ফোরাম, ইউরোপ ও যুক্তরাজ্য, ওয়ার্কিং গ্র“প বাংলাদেশ ইন জার্মানি, আর্থ সিভিলাইজেশন নেটওয়ার্ক এবং ফ্রিডম এ্যান্ড জাস্টিস অ্যালায়েন্স।
সেই পিটিশনটিতে বাংলাদেশের হাম পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২৩ এপ্রিলের প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিলের মধ্যে বাংলাদেশে ১৯ হাজার ১৬১ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী এবং ২ হাজার ৯৭৩টি পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হাম সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছিল। একই সময়ে ১৬৬টি সন্দেহভাজন এবং ৩০টি নিশ্চিত হাম-সম্পর্কিত মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়। আক্রান্তদের ৭৯ শতাংশের বয়স ছিল পাঁচ বছরের নিচে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একই সঙ্গে বাংলাদেশে চলমান সংক্রমণ, বিপুলসংখ্যক টিকাবিহীন বা টিকা-ঘাটতিসম্পন্ন শিশু এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতির কারণে জাতীয় পর্যায়ে ঝুঁকিকে ‘উচ্চ’ বলে মূল্যায়ন করেছিল।
পিটিশনকারীদের বক্তব্য, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে বিঘ্ন, টিকার প্রাপ্যতা ও সরবরাহ, সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা এবং জরুরি টিকাদান কার্যক্রম নিয়ে যে প্রশ্নগুলো বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, সেগুলোর স্বাধীনভাবে পর্যালোচনা প্রয়োজন। সেক্ষেত্র সাবেক অন্তর্র্বতী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূস দায় এড়াতে পারেন না। 
তাদের মতে, এসব প্রশ্ন শুধু একটি নির্দিষ্ট রোগের প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; বরং একটি দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার সক্ষমতা, সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতি, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার সঙ্গেও সম্পর্কিত। এই প্রেক্ষাপটে সংগঠনগুলো ওয়ার্ল্ড হেলথ সামিটের আয়োজকদের কাছে কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণের আহŸান জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে বিশেষ বক্তা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা। আমন্ত্রণ বহাল থাকলে বাংলাদেশের হাম পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট জনস্বাস্থ্য উদ্বেগ সম্পর্কে তাঁকে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ বা আহŸান জানানো এবং হাম প্রাদুর্ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, শিশু চিকিৎসক, টিকাদান বিশেষজ্ঞ এবং স্বাধীন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা।
ইউরোপের পাঁচটি আন্তর্জাতিক সংগঠনের এই স্মারকলিপি ও পিটিশন ছাড়াও জার্মান আওয়ামী লীগ ও জার্মান প্রবাসী বাংলাদেশিদের পক্ষ থেকে সম্মেলন স্থলের বাইরে ৪০০ বিক্ষোভকারীর অংশগ্রহণের পুলিশি অনুমতি নেওয়া হয়। 
শনিবার বার্লিন পুলিশ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সম্মেলনে অংশ না নেওয়ার কথা বিক্ষোভের আয়োজনকারী মিজানুর হক খানকে জানানো হয়। সম্মেলনের যোগাযোগ ও প্রেস বিষয়ক পরিচালক আনা স্টর্মার জানান, তিনি স্বাস্থ্যগত কারণে সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন না। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডাঃ জোবাইদা রহমান সম্মেলনে অংশ নেবেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ হেলথটেক লিমিটেড নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল। ডাঃ জোবাইদা রহমান একজন চিকিৎসক হিসেবে পেশাগত ভূমিকার পাশাপাশি জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জনস্বাস্থ্য সংস্কার, সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত এবং দেশজুড়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা স¤প্রসারণে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে।
ওয়ার্ল্ড হেলথ সামিটের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের প্রাথমিক বক্তা তালিকায় সাবেক অন্তর্বতী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম ছিল। তবে সম্মেলনের চূড়ান্ত বক্তা তালিকায় তার নাম দেখা যায়নি।
বার্লিনের শারিতে বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল (বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলন) এর ৩০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ২০০৯ সালে ওয়ার্ল্ড হেলথ সামিটের যাত্রা শুরু হয়। ওই বছরের ১৪ থেকে ১৯ অক্টোবর প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিবর্তন’।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ