খুলনা | সোমবার | ১২ অক্টোবর ২০২৬ | ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

রেলওয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী তরিকুল আমিনের জন্ম তারিখে জালিয়াতি

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০২:১১ এ.এম | ১২ অক্টোবর ২০২৬


সরকারি নথিপত্রে তথ্যের জালিয়াতি, জন্ম তারিখে বয়স কমিয়ে চাকরিতে প্রবেশ এবং সরকারি পদে বহাল থেকে দলীয় রাজনীতিতে যুক্ত থাকার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ রেলওয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মুন্সি তরিকুল আমীনের বিরুদ্ধে। নথিপত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জন্ম তারিখে প্রায় দুই বছর ১০ মাস ১৫ দিনের গরমিল রেখে তিনি এই জালিয়াতি টিকিয়ে রেখেছেন। 
কাগজপত্র ঘেটে দেখা গেছে, খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার পূর্ব সেনহাটি গ্রামের বাসিন্দা মুন্সি সদরুল আমীন ও রেহেনা আমীনের ছেলে মুন্সি তরিকুল আমীন। তার প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাধ্যমিক স্কুলের ভর্তি রেজিস্ট্রারের তথ্য অনুযায়ী, তার প্রকৃত জন্ম তারিখ ২৫ নভেম্বর ১৯৮৮। স্কুলের রেকর্ড অনুযায়ী তিনি ১৯৯৯ সালের ২৮ জানুয়ারি ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হন। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ৩১ জানুয়ারি প্রকাশিত জাতীয় ভোটার হাসপাতালেও তার জন্ম তারিখ ২৫/১১/১৯৮৮ হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছিল।
তবে রহস্যজনকভাবে পরবর্তীতে ভোটার তালিকা ও জন্মসনদে তার বয়স কমিয়ে ফেলা হয়। প্রাপ্ত নথিতে দেখা যায়, ২০১২ সালের ৮ মার্চ ইস্যুকৃত জন্মনিবন্ধন এবং ২০২১ সালের ৪ মার্চ প্রকাশিত ভোটার তালিকায় তার জন্ম তারিখ পরিবর্তন করে দেখানো হয়েছে ১০ অক্টোবর ১৯৯১। এর ফলে দু’টি ভিন্ন সরকারি নথিতে তার বয়সের ব্যবধান দাঁড়ায় ২ বছর ১০ মাস ১৫ দিন।
বয়স গোপনের অভিযোগ : সরকারি চাকরিতে বয়সসীমার সুবিধা নিতেই এই জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়দের ধারণা। রেলওয়েতে যোগদানের সময় তিনি কোন সার্টিফিকেট বা জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করেছেন, তা নিয়ে বর্তমানে বড় ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
দলীয় রাজনীতি চর্চা : সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা অনুযায়ী কোনো সরকারি কর্মচারী কোনো রাজনৈতিক দল বা অঙ্গসংগঠনের সাথে যুক্ত থাকতে পারেন না। কিন্তু রেলওয়ের মতো সংবেদনশীল রাষ্ট্রীয় দপ্তরে চাকরি করেও তরিকুল আমীন রাজনৈতিক দল ‘ইসলামী ছাত্র আন্দোলন’-এর দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।
এ বিষয়ে আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, একই ব্যক্তির সরকারি নথিতে জন্ম তারিখের এমন বড় ব্যবধান এবং সরকারি চাকরিতে থেকে রাজনৈতিক তৎপরতা চালানো স্পষ্টতই ফৌজদারি অপরাধ ও অসদাচরণ।
বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তারা জানান, সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ