খুলনা | মঙ্গলবার | ১৩ অক্টোবর ২০২৬ | ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

পাকিস্তানে জরুরি শাসন জারির পর ইমরান খানের দলের নেতারা আটক

খবর প্রতিবেদন |
০৩:৪০ পি.এম | ১২ অক্টোবর ২০২৬


পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে জরুরি শাসন জারির পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দলের কয়েকজন নেতাকে আটক করা হয়েছে। সোমবার দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার এ তথ্য জানিয়েছে।

রয়টার্স জানায়, রবিবার পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি প্রদেশটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে স্থগিত করা হয় প্রাদেশিক সরকার। ইমরান খানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সোহেল আফ্রিদির নেতৃত্বে ওই সরকার চলছিল।

কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, প্রদেশটিতে ইসলামপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তবে ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) সরকারের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। দলটির অভিযোগ, ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে সমর্থকেরা যাতে রাজধানী ইসলামাবাদে মিছিল নিয়ে যেতে না পারেন, সে জন্যই জরুরি শাসন জারি করা হয়েছে। ওই মিছিলের মাধ্যমে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চেয়েছিলেন তারা।

প্রাদেশিক সরকার স্থগিত ও জরুরি শাসন জারির ঘটনায় ৭৪ বছর বয়সী সাবেক ক্রিকেট তারকা ইমরান খানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনীর বিরোধ আরো বেড়েছে।

ইমরান খানের সমর্থকেরা কয়েক দিন ধরে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে সমাবেশ করেছেন। এক সপ্তাহ ধরে চলা এসব কর্মসূচির পর জরুরি শাসন জারি করা হয়। সমর্থকদের পরিকল্পনা ছিল, ইমরানের মুক্তি ও চিকিৎসার দাবিতে মিছিল নিয়ে ইসলামাবাদে যাওয়া।

পাকিস্তানের মন্ত্রী তালাল চৌধুরী বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, মুখ্যমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্যকে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আটক করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আটক ব্যক্তিদের কারও বিরুদ্ধে মামলা করার মতো অভিযোগ থাকলে তা আনা হবে এবং বিচার করা হবে। অন্যদের ছেড়ে দেওয়া হবে। তালাল চৌধুরী জানান, রোববার প্রদেশটির রাজধানী পেশোয়ারে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন থেকে তাদের আটক করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন এবং আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঘিরে রেখেছে নিরাপত্তা বাহিনী। সেখানে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। মালবাহী কনটেইনার দিয়েও এলাকাটি অবরুদ্ধ করা হয়েছে।

ইমরান খানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী শওকত ইউসুফজাই আটকের ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি আটক নেতাদের মুক্তি দাবি করেছেন। এর আগে ইসলামাবাদমুখী মিছিলের পরিকল্পনার সময় ইমরান খানের তিন বোন এবং তার শত শত সমর্থককেও আটক করা হয়েছিল।

দুই বছর আগে পিটিআইয়ের সর্বশেষ বড় বিক্ষোভ নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে প্রাণঘাতী সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। ২০২৩ সালে ইমরান খানকে গ্রেপ্তারের পর দেশজুড়ে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়েছিল। সে সময় তার সমর্থকেরা সামরিক স্থাপনায় হামলা চালান।

পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী, জরুরি অবস্থার সময় কেন্দ্রীয় সরকার কোনো প্রদেশের দায়িত্ব নিতে পারে। আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার বলেন, জরুরি অবস্থা ঘোষণার পর প্রদেশটির দায়িত্ব নেবেন একজন গভর্নর। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে খাইবার পাখতুনখোয়ায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলা বেড়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকার ও সামরিক বাহিনীর অভিযোগ, এসব গোষ্ঠীর তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে পিটিআই। তবে দলটি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। গত মাসে ইসলামাবাদ অভিমুখে মিছিলের ঘোষণা দেওয়ার পর সরকার ও পিটিআইয়ের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনা হয়।

মন্ত্রী তালাল চৌধুরী বলেন, পিটিআইয়ের সব দাবি মেনে নিতে সরকার প্রস্তুত ছিল। এমনকি দলটিকে মিছিল করার অনুমতি দিতেও রাজি ছিল তারা। তবে তার ভাষ্য, সরকার শুধু একটি শর্ত দিয়েছিল। পিটিআইকে প্রকাশ্যে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতার নিন্দা জানাতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সরকারের পাশে দাঁড়াতে হবে। তালাল চৌধুরী বলেন, পিটিআই এ শর্তে রাজি হয়নি। এ কারণে আলোচনা ভেঙে গেছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ