খুলনা | মঙ্গলবার | ১৩ অক্টোবর ২০২৬ | ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

হুতি ক্ষেপণাস্ত্রের ভয়ে বাঙ্কারযুক্ত প্রাসাদে সৌদি যুবরাজ

খবর প্রতিবেদন |
১১:৪৬ পি.এম | ১২ অক্টোবর ২০২৬

 

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে নজিরবিহীন নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এরমধ্যে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাঙ্কার-সুবিধাসম্পন্ন সুরক্ষিত প্রাসাদে আশ্রয় নিয়েছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।

সোমবার (১২ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও সম্ভাব্য নতুন আক্রমণের আশঙ্কা সৌদি নেতৃত্বের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে রিয়াদের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরে নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হওয়ায় যুবরাজের চলাচল ও অবস্থান নিয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে যুবরাজের চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। শেষবার গত মঙ্গলবার জাতীয় রক্তদান কর্মসূচিতে রক্ত দিতে দেখা গিয়েছিল ৪১ বছর বয়সী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে। এরপর থেকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি তাকে।

প্রসঙ্গত, ইরান সমর্থিত হুতিদের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যেই সপ্তাহজুড়ে রিয়াদসহ সৌদি আরবের একাধিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় দেশটির বিমান যোগাযোগ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা বড় ধরনের চাপে পড়েছে। বিশেষ করে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একের পর এক হামলা যাত্রীদের নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা এবং আঞ্চলিক আকাশপথের স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (১০ অক্টোবর) রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ ১৩ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হন।

একদিন পরই রোববার (১১ অক্টোবর) বিমানবন্দরের টার্মিনাল এলাকায় আবারও হামলা চালায় হুতিরা।

সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি অজ্ঞাত বস্তু বিমানবন্দরের টার্মিনাল ৪-এ আঘাত হানে। এতে এক পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হন এবং আরও ১১ জন আহত হন।

রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশাপাশি দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং আভা, জিজান ও নাজরান বিমানবন্দরও হুথিদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

এদিকে হামলার প্রভাব বিমানবন্দরেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। রিয়াদের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হচ্ছে। শহরের আর্থিক এলাকায় কর্মরত মানুষ, কয়েকটি আন্তর্জাতিক স্কুলের শিক্ষার্থী এবং কূটনীতিকদের ভবন ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার অথবা আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার রিয়াদে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দিয়ে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর তার ধ্বংসাবশেষ একটি কিন্ডারগার্টেন ও চিকিৎসাকেন্দ্রের ওপর পড়ে। এতে বেসামরিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

অন্যদিকে সৌদি কর্মকর্তারা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার জন্য ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টরের মজুত কমে আসা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষার প্রয়োজনীয়তা মেটাতে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা রাজপ্রাসাদ ও গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোর মতো বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল আরও জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তানের পাশাপাশি ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও মিশরের সহায়তাও চেয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে অতিরিক্ত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সংগ্রহের চেষ্টা করছে রিয়াদ। 
সূত্র: ওয়াইনেট নিউজ, দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট

প্রিন্ট

আরও সংবাদ