খুলনা | মঙ্গলবার | ১৩ অক্টোবর ২০২৬ | ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

সৌদি আরবে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

খবর প্রতিবেদন |
১১:৫১ পি.এম | ১২ অক্টোবর ২০২৬

 

সৌদি আরবে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) নতুন করে হামলার মুখে পড়ার কথা জানিয়েছে দেশটি। এ পরিস্থিতিতে রিয়াদ বিমানবন্দর আপাতত বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। এর কয়েক দিন আগে শনিবার বিমানবন্দরের একটি যাত্রী ওঠানামার টার্মিনালে প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা ওই হামলার দায় স্বীকার করেছিল। খবর রয়টার্স।

ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে সমর্থন দেওয়া সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সোমবার নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আসার খবর জানিয়েছে। তবে এসব হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি।

গত সপ্তাহ থেকে সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে হুথিরা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাত থেকে ছড়িয়ে পড়া উত্তেজনার মধ্যে এই হামলাগুলো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

হামলার কারণে সৌদি আরবের আকাশসীমার কিছু অংশে বিমান চলাচল বন্ধ রয়েছে। স্থগিত হয়েছে রিয়াদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম। ফলে রাজধানীর আকাশপথও অনেকটা ফাঁকা হয়ে পড়েছে। এর মধ্যেই শহরটিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সম্মেলন।

বাব আল-মান্দেব প্রণালি ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা
সৌদি আরব এখন কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনের পথ নিরাপদ রাখা এবং সেপ্টেম্বরে আকস্মিক অগ্রগতির পর হুথিদের আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠা ঠেকাতে দেশটি আবারও ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে।

ইয়েমেনের সামরিক সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে জানা গেছে, বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশে হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনী কিছুটা অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে অন্য কয়েকটি রণাঙ্গনে তারা এখনও চাপে রয়েছে। ফলে হুথিদের ওপর চাপ সৃষ্টি করলেও এর সুফল পেতে সময় লাগতে পারে।

এদিকে সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরান হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি সরকারের বিরোধ মেটাতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে। সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপ সহজ করতে ইরান বারবার সহযোগিতার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে।

অন্যদিকে, হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের বিমান হামলা জোরদার হয়েছে। ইয়েমেনের একটি টেলিভিশন চ্যানেলের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার আল-জাওফ প্রদেশেও হামলা চালানো হয়েছে। তবে এসব পাল্টা হামলার মধ্যেও সৌদি অবকাঠামো লক্ষ্য করে নিজেদের আক্রমণ বন্ধ করার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না হুথিরা।

গোষ্ঠীটি বারবার সৌদি আরবের বিমানবন্দর, আকাশসীমা এবং তেল স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছে। এসব তেল স্থাপনা সৌদি অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি এবং দেশটির উচ্চাভিলাষী উন্নয়ন পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

উপসাগরীয় দেশগুলোর যৌথ নিরাপত্তা উদ্যোগের আহবান আমিরাতের
সোমবারের জ্বালানি সম্মেলনে সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের বৃহত্তর লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগ আকর্ষণের বিষয়ে দেশটি মনোযোগ অব্যাহত রাখবে।

তিনি বলেন, সৌদি আরবের জ্বালানি ব্যবস্থা ও শিল্প সক্ষমতার উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এদিকে সৌদি আরবের প্রতিবেশী সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সোমবার নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ইস্যুতে উপসাগরীয় দেশগুলোর যৌথ উদ্যোগ পুনরুজ্জীবিত করার আহবান জানিয়েছে।

আমিরাতের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ বলেন, সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলে তা উপসাগরীয় সব দেশের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে। সম্মিলিত উপসাগরীয় নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষা করার ফলে অন্যরা আঞ্চলিক দেশগুলোর বিরুদ্ধে বাড়াবাড়ি করার সাহস পেয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত দীর্ঘদিন ধরে ইয়েমেন সংঘাতে অংশীদার হিসেবে কাজ করেছে। তবে ইয়েমেনের সরকারকে সমর্থন দেওয়া সামরিক জোটের ভেতরে তারা ভিন্ন ভিন্ন বাহিনীকে সমর্থন দিয়েছে। গত শীতকালে দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধও দেখা দেয়।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার বলেছেন, হুথি বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে সৌদি আরবের সঙ্গে যৌথ হামলায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন। তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ