খুলনা | মঙ্গলবার | ১৩ অক্টোবর ২০২৬ | ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

জনউদ্যোগের বির্তক প্রতিযোগিতায় বক্তারা

পারিবারিক শিক্ষা ও বিদ্যালয় দীক্ষা হলো ডেঙ্গু মুক্ত সমাজ গড়ার হাতিয়ার

খবর বিজ্ঞপ্তি |
১২:৫৪ এ.এম | ১৩ অক্টোবর ২০২৬


পারিবারিক শিক্ষা ও বিদ্যালয় দীক্ষা হলো ডেঙ্গু মুক্ত সমাজ গড়ার সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার। ঘর থেকে শুরু হওয়া সচেতনতা যখন বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলার সাথে যুক্ত হয়, তখন ডেঙ্গু প্রতিরোধ একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ নেয়। যখন একটি শিশু পরিবার থেকে পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব শিখবে এবং বিদ্যালয় থেকে সেটি চর্চা করার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বা দীক্ষা পাবে, তখন সে নিজের অজান্তেই একজন ‘ডেঙ্গু ফাইটার’ বা সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। এভাবে বললেন জনউদ্যোগ, খুলনার আলোচনা ও বির্তক প্রতিযোগিতা বক্তারা।
গতকাল সোমবার বেলা ১১টায় জনউদ্যোগ, খুলনার আয়োজনে "পারিবারিক শিক্ষা, বিদ্যালয় দীক্ষা-ডেঙ্গু মুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়" শীর্ষক আলোচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জনউদ্যোগ, খুলনার আহবায়ক মানস রায়। সঞ্চালনা করেন জনউদ্যোগ, খুলনার সদস্য সচিব  সাংবাদিক মহেন্দ্র নাথ সেন। অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুল ইসলাম, রূপসা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুর রহমান, রূপসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম। বক্তৃতা করেন সহকারি প্রধান শিক্ষিকা মোসাম্মৎ নাঈম জাহান, সিনিয়র শিক্ষক কুমারেশ চন্দ্র ঘরামী, শিক্ষিকা স্মৃতি কণা দাস প্রমুখ। 
বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের মূল যুদ্ধটা শুরু হয় আমাদের ঘর থেকে। এডিস মশা মূলত ঘরের ভেতরে বা চারপাশে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে বংশবৃদ্ধি করে। তাই টব, এয়ার কন্ডিশনার, ফ্রিজের ট্রে বা যেকোনো পাত্রে জমে থাকা পানি প্রতি তিন দিনে অন্তত একবার ফেলে দিতে হবে। এডিস মশা সাধারণত সকাল ও সন্ধ্যায় কামড়ায়। এই সময়ে ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ রাখা এবং শিশুদের ফুল হাতা পোশাক পরানোর অভ্যাস পরিবার থেকেই শেখাতে হবে। দিনের বেলা ঘুমালেও মশারি টানানোর পারিবারিক নিয়ম তৈরি করতে হবে। 
বক্তারা আরো বলেন, বিদ্যালয় হলো এমন এক জায়গা যেখানে শিশুরা শৃঙ্খলা শেখে এবং সহপাঠীদের সাথে দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা অর্জন করে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ, খেলার মাঠ বা ছাদ যেন পানি জমার উৎস না হয়, সেদিকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত নজরদারি রাখা। প্রতিদিনের প্রাতঃসমাবেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বার্তা দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের নিয়ে ছোট ছোট টিম গঠন করে দেওয়া, যারা নিয়মিত বিদ্যালয়ের চারপাশ পরিদর্শন করবে। এতে তাদের মধ্যে দায়িত্ববোধ তৈরি হবে। বক্তারা বলেন, এই শিশুরা যখন বাড়িতে গিয়ে মা-বাবাকে সচেতন করবে এবং বিদ্যালয়ে এসে বন্ধুদের উদ্বুদ্ধ করবে, তখনই সমাজ থেকে ডেঙ্গু চিরতরে দূর করা সম্ভব হবে। আলোচনা সভার সমাপনী স্লোগান ছিল “ঘর রাখব পরিষ্কার, বিদ্যালয় রাখব পরিচ্ছন্ন, ডেঙ্গু মুক্ত সমাজ গড়তে আমরা সবাই বদ্ধপরিকর।”

প্রিন্ট

আরও সংবাদ