খুলনা | মঙ্গলবার | ১৩ অক্টোবর ২০২৬ | ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুলের কন্ঠ নকল

সাড়ে ৩ কোটি টাকা প্রতারণা মামলায় জাকিয়া বেগমসহ ৩ আসামি রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০১:৩৯ এ.এম | ১৩ অক্টোবর ২০২৬


জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুলের কন্ঠ নকল করে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সাড়ে ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মামলায় একজনকে একদিনের এবং অপর দু’জনের ২ দিনের  রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।   সোমবার দুপুরে শুনানি শেষে আসামিদের রিমান্ডের আদেশ প্রদান করেন খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোঃ আসাদুর জামান। একদিনের রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন আড়ংঘাটা থানাধীন রায়েরমহল মধ্যপাড়ার জাফর মুন্সির স্ত্রী জাকিয়া বেগম (৩৮) এবং ২ দিনের রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন খানজাহান আলি থানাধীন শিরোমনি আবাসিক এলাকার মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে মেহেদী হাসান ওরফে বাবুল ওরফে কাগজী বাবু (৪৬) ও খালিশপুর থানাধীন রায়েরমহল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের বাসিন্দা মুজিবর শরীফের ছেলে মোঃ ইমরান শরীফ রনি (২৪)।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা বিভাগের এসআই মোঃ সাইদুর রহমান আদালতে আসামিদের ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন। এ মামলার অপর আসামি সোনাডাঙ্গা থানাধিন ৪, দেবেন বাবু রোডের আব্দুল কাদেরের ছেলে এজাজ আহমেদ রাজা (৪৬) আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া আসামি জাকিয়া সুলতানার কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। মামলায় গ্রেফতার অপর দু’আসামি হলেন সদর থানাধিন ১৯/৩, মুন্সিপাড়ার শেখ শারাফত হোসেনের ছেলে সোহেল (৪৬) ও খালিশপুর থানাধীন ৩৯, মুজগুন্নি কাজীপাড়ার আবুল কালাম হাওলাদারের ছেলে সুমন হাওলাদার (৩৬)।       
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোঃ সাইদুর রহমান জানান, আলামু উদ্ধারে ৩ আসামির রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। যেহেতু আসামি জাকিয়া সুলতানার কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে, বাকী টাকা উদ্ধার জরুরি। পূর্বে জবানবন্দি দেয়া আসামিদের তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জিএম আজিজুর রহমান নগরীর পশ্চিম টুটপাড়ার জিএম এলাহি বকসের ছেলে। তাঁর বড় ভাই জিএম মফিজুর রহমান টিকু যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। খুলনা মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আরিফ তাঁর বড় ভাইকে ফোন করে জানান, জাতীয় সংসদের হুইপ ‘বকুল ভাই’ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চান। এরপর একটি বিদেশি নম্বর হুইপের নম্বর হিসেবে দেয়া হয়। ওই নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপে কল করলে অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে হুইপ বকুল পরিচয় দেন। ২৯ জুলাই রাত ২টা ৩৮ মিনিটে পশ্চিম টুটপাড়ার বাসায় থাকা অবস্থায় মফিজুর রহমান টিকু ওই ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর ভাই ব্যবসায়ী আজিজুর রহমানকে গ্র“প কলে যুক্ত করেন। সেখানে প্লাটিনাম জুট মিলের পুরনো যন্ত্রাংশ কেনাবেচা নিয়ে আলোচনা হয়। এজাহারে বলা হয়, আলোচনার একপর্যায়ে হুইপ পরিচয়দানকারী ব্যক্তি যন্ত্রাংশ কেনার আগে অগ্রিম পেমেন্ট ক্লিয়ার করার কথা বলেন। পরে ব্যবসায়ীর সঙ্গে দেখা করতে একজনকে পাঠানোর কথা জানানো হয়। ২৯ জুলাই বিকেল সোয়া ৩টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে মাহাবুবুর রহমান মামুনের আসার কথা থাকলেও তিনি না এসে এজাজ আহমেদ রাজাসহ আরো একজনকে পাঠান। তাঁদের হাতে প্লাটিনাম জুট মিলের পুরনো যন্ত্রাংশ কেনার পেমেন্ট বাবদ দুই কোটি টাকা দেওয়া হয়। এরপর একই নম্বরে আবার যোগাযোগ করা হলে হুইপ পরিচয়দানকারী ব্যক্তি ব্যবসায়ীকে হার্ডবোর্ড মিল কেনার প্রস্তাব দেন। পরদিন ৩০ জুলাই ভোরে আইনজীবী মোহাম্মদ আলী বাবু হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা দিয়ে জানান, ‘বকুল ভাই’ তাঁকে জুট মিলে যেতে বলেছেন। ওই দিন দুপুরে সেখানে গিয়ে যন্ত্রাংশ পছন্দ করার পর এজাজ আহমেদ রাজা ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের আরো দেড় কোটি টাকা দেন ব্যবসায়ী। এরপর হুইপ পরিচয়দানকারী ব্যক্তি বারবার দেখা করার কথা বলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় সংসদের হুইপ খুলনায় এলে তাঁর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করেন ব্যবসায়ী। পুরো ঘটনা জানালে হুইপ তাঁকে জানান, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তখনই প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হন ব্যবসায়ী। পরে ১৮ সেপ্টেম্বর ব্যবসায়ী বাদী হয়ে খুলনা থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে দু’জনের নাম উলে­খ ও ৫/৬ জন অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন যার নং-২৩। মামলাটি তদন্তের জন্য ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। মামলায় উলে­খিত দু’আসামি হলেন সোনাডাঙ্গা থানাধীন ৪, দেবেন বাবু রোডের আব্দুল কাদেরের ছেলে এজাজ আহমেদ রাজা (৪৬) ও একই রোডের মৃত শেখ নাছির উদ্দিনের ছেলে শেখ মাহবুবুর রহমান মামুন (৪৯)। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ