খুলনা | মঙ্গলবার | ১৩ অক্টোবর ২০২৬ | ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

সংগ্রামের মুখে দীপ্তি ছড়াচ্ছেন খুলনার শ্রাবণী শীল : নাচের ছন্দে স্বপ্ন পূরণের গল্প

এন আই রকি |
০২:১৭ এ.এম | ১৩ অক্টোবর ২০২৬


বাবার আকস্মিক প্রয়াণ, আর্থিক টানাপোড়েন আর সমাজের রক্তচক্ষু কোনো বাধাই থামাতে পারেনি খুলনা সরকারি হাজী মোহাম্মদ মহসিন কলেজের শিক্ষার্থী শ্রাবণী শীলকে। শত প্রতিকূলতা পেরিয়ে নৃত্যশিল্পে নিজের সুদৃঢ় অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি। আজ তিনি শুধু খুলনার পরিচিত মুখই নন, বরং নাচের ছন্দে মন জয় করেছেন জাতীয় স্তরেও।
২০০৯ সালে নগরীর দৌলতপুর থানার বিয়েন মনি থিয়েটারে আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রাবণীর নাচ শেখা শুরু হয়। তবে ২০১২ সালে পিুা জীবন শীলের মৃত্যুতে বড় ধরনের ধাক্কা খায় পুরো পরিবার। মা মিনতি শীল ও তিন বোনকে নিয়ে শুরু হয় বেঁচে থাকার চরম সংগ্রাম। আর্থিক সংকটে ক্লাসের বেুন ও পোশাকের খরচের অভাবে শ্রাবণীর নাচ প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। ঠিক সেই দুর্যোগময় মুহূর্তে পাশে দাঁড়ান নাচের গুরু সুশান্ত দেবনাথ। তিনি শ্রাবণীর সব দায়িত্ব গ্রহণ করার পর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি এই উদীয়মান শিল্পীকে।
পরিবারের উৎসাহ আর নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে থানা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন শ্রাবণী। ২০১৭ সালে জেলা পর্যায়ে দলীয় নৃত্যে প্রথম এবং সর্বশেষ ২০২৫ সালে খুলনা বিভাগের আন্তঃকলেজ প্রতিযোগিতায় মহসিন কলেজের হয়ে অংশ নিয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন তিনি। বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও এটিএন বাংলাসহ একাধিক টিভি চ্যানেলের প্রতিযোগিতায়ও তার উপস্থিতি নজর কেড়েছে। র্বুমানে কলেজের পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন একাডেমিতে ক্লাস নিয়ে এবং প্রাইভেট শিখিয়ে নিজের পড়ার খরচ ও পরিবারের যোগান দিচ্ছেন।
শ্রাবণী শীল সময়ের খবরকে জানান, “মাত্র চার বছর বয়স থেকে নাচে হাতেখড়ি। বড় বোন গান গাইতেন, সেখান থেকেই আমার অনুপ্রেরণা। বাবা মারা যাওয়ার পর মা অনেক কষ্টে আমাদের তিন বোনকে মানুষ করেছেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছি, এটাই সবচেয়ে বড় পাওয়া।”
গ্রামের বাড়ি বরিশালে হলেও শৈশব থেকেই খুলনায় বেড়ে উঠেছেন শ্রাবণী। বীণাপাণি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দৌলতপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে বর্তমানে মহসিন কলেজে ব্যবস্থাপনা বিভাগে অনার্স করছেন।
বড় বোন মিুা শীল জানান, ছোটবেলা থেকে আমি গান শিখতাম। আমার স্বপ্ন ছিল আমার বোন নৃত্যশিল্পী হবে। বাবার অনুপ্রেরণায় শ্রাবণীকে নাচের একাডেমিতে ভর্তি করি।
শ্রাবণীর মা মিনতি শীল বলেন, “স্বামী মারা যাওয়ার পর মেয়েকে নাচে পাঠাতে পরিবারের অনেকেই বাধা দিয়েছিল। রাতে অনুষ্ঠান শেষে ফিরলে গালমন্দ শুনতে হতো। সব কষ্ট সহ্য করে মেয়েকে শিখিয়েছি, আজ ওর সাফল্যই আমার কষ্টের সার্থকতা।”
ভবিষ্যতে নিজের একটি নৃত্য এ্যাকাডেমি গড়ার স্বপ্ন শ্রাবণীর। নাচের তাল আর অদম্য স্বপ্নে ভর করে তিনি এগিয়ে যেতে চান বহুদূর।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ