খুলনা | মঙ্গলবার | ১৩ অক্টোবর ২০২৬ | ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

তালিকায় সাতটি ওয়াকিটকি ও ছয়টি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট

‘আলিফ বাহিনীর’ পুঁতে রাখা ১৪টি আগ্নেয়াস্ত্র ও আড়াই শতাধিক গুলি উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০২:২১ এ.এম | ১৩ অক্টোবর ২০২৬


সুন্দরবনের জলদস্যু ‘আলিফ বাহিনীর’ দুই গ্র“পের ১৫ সদস্যের আত্মসমর্পণের পর বনের বিভিন্ন স্থানে টানা অভিযান চালিয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-৬)। অভিযানে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ১৪টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২৭৪ রাউন্ড তাজা গুলি, ২৩টি খালি কার্তুজ, সাতটি ওয়াকিটকি ও ছয়টি বুলেটপ্র“ফ জ্যাকেট। এসব অস্ত্র ও সরঞ্জাম তিন-চার মাস আগে বনের বিভিন্ন স্থানে মাটি চাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। সোমবার খুলনায় এসআরবি-৬-এর সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির উপ-অধিনায়ক মেজর মোঃ নাজমুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সুন্দরবনের বনজীবী জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত ২ মার্চ থেকে কোস্ট গার্ড, এসআরবি, স্থানীয় প্রশাসন, নৌ পুলিশ ও বন বিভাগের যৌথ পরিচালনায় ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ শুরু হয়। যৌথ বাহিনীর টানা অভিযানের মুখে টিকতে না পেরে জলদস্যুরা আত্মসমর্পণের পথ বেছে নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সুন্দরবনের আড় পাঙ্গাসিয়া নদীসংলগ্ন এলাকা থেকে আলিফ বাহিনীর দুই গ্র“পের ১৫ জন সদস্য আত্মসমর্পণ করেন।
মেজর নাজমুল ইসলাম জানান, আত্মসমর্পণের সময় তাঁদের কাছে কোনো অস্ত্র ছিল না। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গভীর বনে দুই দিনব্যাপী উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। জলদস্যুরা বিভিন্ন স্থানে আলাদাভাবে এসব অস্ত্র লুকিয়ে রেখেছিল।
আত্মসমর্পণকারী জলদস্যুদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে জানিয়ে এসআরবি কর্মকর্তা বলেন, অনেক সদস্যই জানেন না তাঁদের বিরুদ্ধে কোথায় কী মামলা রয়েছে। তাঁদের প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মামলার নিষ্পত্তি হবে। একই সঙ্গে জলদস্যুদের কাছে অস্ত্র সরবরাহকারী, চাঁদা আদায়কারী ও সহযোগীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে সাতক্ষীরা, কয়রা, দাকোপ ও পটুয়াখালী অঞ্চলের অস্ত্র সরবরাহকারীদের নাম, মোবাইল নম্বর এবং লেনদেনের পদ্ধতিসংক্রান্ত নানা তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
মেজর নাজমুল ইসলাম বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শুধু অপরাধ দমন করে না, কেউ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাইলে তাকে সহায়তার হাতও বাড়িয়ে দেয়। তিনি বনের অন্য জলদস্যুদের অপরাধ ছেড়ে আত্মসমর্পণের আহবান জানান, অন্যথায় কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ