খুলনা | বুধবার | ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

অকার্যকর মশার ওষুধ বাতিল : ঠিকাদারকে নোটিশ কেসিসির, নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড থেকে আসছে নতুন ওষুধ

এন আই রকি |
০১:০৫ এ.এম | ১৪ অক্টোবর ২০২৬


মশার লার্ভা নিধনে কার্যকারিতা না থাকায় খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) কেনা প্রায় ৫৬ লাখ টাকার ওষুধ বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে অকার্যকর ওষুধ সরবরাহ করায় সংশি¬ষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ দিয়ে ওষুধ ফেরত নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কেসিসি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নগরীতে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড এ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড থেকে নতুন ওষুধ সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার কেসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোঃ আনিসুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকার ‘মেসার্স এম আর এন্টারপ্রাইজ’কে এই নির্দেশ দেওয়া হয়।
কেসিসি সূত্র জানায়, মশার লার্ভা ও উড়ন্ত মশা দমনে স¤প্রতি ৫৬ লাখ টাকায় দুই হাজার লিটার লার্ভিসাইড (ক্লোরপাইরিফস ২০ ইসি) কেনে কেসিসি। সরবরাহকৃত লার্ভিসাইডের নমুনা সংগ্রহ করে মান পরীক্ষায় দেখা যায়, প্রয়োগের ২৪ ঘণ্টা পর মাত্র ১২ শতাংশ লার্ভা মারা গেছে। এ ফল সন্তোষজনক না হওয়ায় কার্যাদেশ বাতিলসহ ঠিকাদারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়।
এ অবস্থায় করণীয় নির্ধারণে মঙ্গলবার কেসিসির পরিচালনা কমিটির সভায় ডাইরেক্ট প্রকিউরমেন্ট মেথড (ডিপিএম) পদ্ধতিতে নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড থেকে আপাতত এক হাজার লিটার লার্ভিসাইড কেনার সিদ্ধান্ত হয়। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এ ওষুধ সরবরাহ পাওয়া যাবে।
এ বিষয়ে কেসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোঃ আনিসুর রহমান বলেন, “সাধারণত প্রতি লিটার লার্ভিসাইডের দাম ২ হাজার ৮০০ টাকা হলেও ডকইয়ার্ড থেকে কেনা নতুন ওষুধের মান নিশ্চিত করতে প্রতি লিটারে খরচ পড়বে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টাকা। মান পরীক্ষায় অকার্যকর প্রমাণিত হওয়ায় আগের দুই হাজার লিটার ওষুধের কার্যাদেশ বাতিল ও ঠিকাদারকে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত নতুন ওষুধ কেনা হচ্ছে, তবে এটিও ছিটানোর আগে মান পরীক্ষা করা হবে।”
এদিকে উড়ন্ত মশা নিধনে ‘সাইপারমেথ্রিন’ ওষুধের কার্যকারিতা মঙ্গলবার বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক নেতাদের উপস্থিতিতে ফগার মেশিনের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়। কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, “আমরা আজ মশারি টাঙিয়ে ভেতরে মশা রেখে ফগার মেশিনের ধোঁয়া দিয়ে পরীক্ষা করেছি। এখন পর্যন্ত দেখেছি বেশিরভাগ মশা স্বাভাবিক নেই। আগামী ২৪ ঘণ্টা এটি নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকবে। নতুন ওষুধ কার্যকর প্রমাণিত হলেই ছিটানো হবে, অন্যথায় আমরা বিকল্প ওষুধের কথা ভাবব। বিগত দিনে যে ওষুধে কাজ হয়নি, সেটি ইতিমধ্যেই বাতিল করা হয়েছে।”
ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও সরকারের নির্দেশনার কথা উল্লে¬খ করে কেসিসি প্রশাসক বলেন, “খুলনায় ডেঙ্গুর ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের ডেঙ্গু দমনে তিন মাসের সময়সীমা দিয়েছেন এবং প্রায় দুই কোটি টাকার আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছেন। ইতোমধ্যে এক মাস পার হয়েছে, আগামী দুই মাস আমাদের বিশেষ কর্মসূচি চলবে। নগরবাসীকে কোনো ঝুঁকির মধ্যে না রেখে নিরাপদ ও ডেঙ্গুমুক্ত শহর গড়তে আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে কাজ করছি। প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর তথ্যমতে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা কমছে, যা ইতিবাচক। তবে আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে যা যা করণীয় কেসিসি তার সবই করবে।”

প্রিন্ট

আরও সংবাদ