খুলনা | বুধবার | ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

নেপালে বন্যায় আটকা ৯ বাংলাদেশি ফুরিয়ে আসছে খাবার

খবর প্রতিবেদন |
০১:৩৫ এ.এম | ১৪ অক্টোবর ২০২৬


নেপালের মধ্যাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে শতাধিক বিদেশি পর্যটকসহ আটকা পড়েছেন ৯ বাংলাদেশিও। দেশটির গোর্খা জেলার জগৎ গ্রামে আটকে থাকা এসব পর্যটক হেলিকপ্টারে উদ্ধারের অপেক্ষায় রয়েছেন। বন্যায় বিদ্যুৎ ও বাইরের বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ধীরে ধীরে কমে আসছে খাবারের মজুতও। মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আটকে পড়া বাংলাদেশি পর্যটক মোঃ শাহাদাত হোসেন তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে বলেন, ‘সোমবার থেকে আমরা এই স্থানে আটকা পড়ে আছি। গ্রামের ওপরের দিক থেকে আকস্মিক বন্যার পানি নেমে এসে গ্রামের নিচের অংশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।’
পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা নিরাপদে আছি। তবে গতকাল থেকে বিদ্যুৎ নেই। বাইরের বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। খাবারের সরবরাহও ধীরে ধীরে কমে আসছে।’
নেপালের জনপ্রিয় মানাসলু ট্রেকিং রুটের বিভিন্ন স্থানে শতাধিক বিদেশি পর্যটক আটকা পড়েছেন। বন্যায় সেতু, হাঁটার পথ ও কয়েকশ’ বাড়িঘর ভেসে যাওয়ায় তাদের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
মানাসলু সংরক্ষণ এলাকা প্রকল্পের কর্মকর্তা ভুবন রাজ ওঝা রয়টার্সকে জানান, বন্যায় ট্রেকিং রুটের কিছু অংশ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় পর্যটকেরা বিভিন্ন স্থানে আটকা পড়েছেন। যারা ফিরে যেতে চান, তাদের উদ্ধারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আর যারা ট্রেকিং চালিয়ে যেতে চান, তাদের নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার সুযোগ রয়েছে। পথের ধারের রেস্তোরাঁ ও চায়ের দোকানগুলোও নিরাপদ বলে জানান তিনি।
রোববার ভোরে কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পশ্চিমে গোর্খা জেলায় ভূমিধসে বুড়ি গণ্ডকী নদীর প্রবাহ আটকে গেলে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। এতে নদীর দুই তীরের দুই শতাধিক বাড়িঘর ভেসে যায় এবং তিনটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
নেপালের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সর্বশেষ বন্যায় এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তবে পাঁচ গ্রামবাসীর সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। নদীর পানির উচ্চতা কমে আসায় উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে। সোমবার ১২ বিদেশিসহ ৩২১ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবারও উদ্ধার অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী।
এদিকে গোর্খা, তানাহুন, চিতওয়ান, পূর্ব নাওয়ালপারাসি ও পশ্চিম নাওয়ালপারাসি জেলার নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের বন্যার বিষয়ে সতর্ক করেছে জাতীয় দুর্যোগ কর্তৃপক্ষ।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ