খুলনা | বুধবার | ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

মন্দিরে মন্দিরে ঘুরে স্বর্ণ চুরি করতেন স্বামী-স্ত্রী

খবর প্রতিবেদন |
০১:৪০ এ.এম | ১৪ অক্টোবর ২০২৬


রাজধানীর বিভিন্ন মন্দিরে ঘুরে প্রতিমার গায়ে থাকা স্বর্ণালংকার চুরি করতেন এক দম্পতি। রমনা কালীমন্দিরে মা কালীর বিগ্রহের জিভে রাখা স্বর্ণ চুরির ঘটনায় তদন্ত করতে গিয়ে এই দম্পতির সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় স্বামী-স্ত্রীসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার অপর দু’জন স্বর্ণের দোকানের মালিক। মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির যুগ্ম-কমিশনার (ক্রাইম) ফারুক হোসেন।
তিনি জানান, গ্রেফতার দম্পতি অর্ণব রায় ও তার স্ত্রী লিপি কর্মকারের বিরুদ্ধে রমনা কালীমন্দির ছাড়াও আরও দু’টি মন্দিরে স্বর্ণ চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চুরি করা স্বর্ণালংকার কেনার অভিযোগে দু’জন স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ৭ অক্টোবর সকাল পৌনে ৯টা থেকে বিকাল ৪টার মধ্যে রাজধানীর শাহবাগে রমনা কালীমন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটে। মন্দিরের মা কালী বিগ্রহের জিভে রাখা আনুমানিক ছয় আনা ওজনের স্বর্ণ চুরি হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৮০ হাজার টাকা। এ ঘটনায় মন্দিরের পুরোহিত সুজিত চক্রবর্তী শাহবাগ থানায় অভিযোগ করেন।
অভিযোগের পর মন্দিরের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা করে পুলিশ। একপর্যায়ে উত্তরখান থানার দোবাদিয়া এলাকা থেকে অর্ণব রায় ও লিপি কর্মকারকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় মামলা হয়েছে। গ্রেফতারের পর তাদের আদালতে পাঠানো হলে দু’জনই দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডিএমপির যুগ্ম-কমিশনার ফারুক হোসেন জানান, গ্রেফতার দম্পতির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণখান এলাকার সাদিয়া জুয়েলার্সের মালিক মোঃ মুহিনকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে দুই আনা এক রতি ওজনের স্বর্ণের পাত উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, উদ্ধার করা স্বর্ণের পাতটি রমনা কালীমন্দির থেকে চুরি হওয়া স্বর্ণের অংশ।
এছাড়া গত ১৩ সেপ্টেম্বর সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দিরে স্বর্ণ চুরির ঘটনায়ও অর্ণব রায় ও লিপি কর্মকারের সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছে পুলিশ। ওই ঘটনায় রমনা থানায় মামলা হয়েছিল। দম্পতিকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির থেকে চুরি হওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, চুরির পর ওই স্বর্ণালংকার জাকারিয়া ইসলাম নামের এক জুয়েলারি ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করেছিলেন দম্পতি। এ অভিযোগে তাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
ফারুক হোসেন আরও জানান, দুই মন্দিরে চুরির পাশাপাশি গত ১১ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের দেওভোগে একটি মন্দিরে বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারীর গলার স্বর্ণের চেইন চুরির চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে অর্ণব রায়ের বিরুদ্ধে। চেইন নিয়ে পালানোর সময় মন্দিরের পুরোহিত তাকে ধরে ফেলেন। পরে মন্দির কমিটির সদস্যরা তাকে ছেড়ে দেন।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা চোর চক্রের সদস্য উলে­খ করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিনটি ঘটনায় অর্ণব রায় ও লিপি কর্মকারের সম্পৃক্ততার কথা জানা গেছে। তারা বিভিন্ন মন্দিরে ঘুরে ঘুরে চুরি করতেন। এর বাইরে অতীতে একই ধরনের আরও কোনো চুরির ঘটনায় তারা জড়িত ছিলেন কি না এবং এই চক্রের সঙ্গে অন্য কেউ যুক্ত রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ