খুলনা | বুধবার | ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

শিক্ষা ও গবেষণা সহযোগিতা স¤প্রসারণে মতবিনিময়

চীন বাংলাদেশের অকৃত্রিম ও পরীক্ষিত বন্ধু : খুকৃবি উপাচার্য

খবর বিজ্ঞপ্তি |
০১:৫৩ এ.এম | ১৪ অক্টোবর ২০২৬


বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা স¤প্রসারণ এবং শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুকৃবি) চীনের ইউনান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানানো হয়েছে।
খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ আসাদুজ্জামান সরকারে উপস্থিতিতে গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মাল্টিপারপাস রুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শিক্ষা, গবেষণা, জ্ঞান বিনিময় ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। সফর উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আমন্ত্রিত অতিথিদেরকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। 
প্রতিনিধি দলে ছিলেন ইউনান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ইকোনমিকস এ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রফেসর  ড. লু ফেং ও প্রফেসর ড. ইয়ান ঝাং। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. শামীম আহমেদ কামাল উদ্দিন খান।  স্বাগত বক্তৃৃতা করেন কোয়ালিটি কন্ট্রোল এ্যান্ড সেফটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মোঃ হাফিজুর রহমান। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন খুলনা এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটি রিসার্চ সিস্টেমস (কাউরেস) এর সহকারী পরিচালক ও সহকারী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম। কাউরেসের ব্যবস্থাপনায় এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। 
অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. লু ফেং বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে সীমান্তপারের অর্থনৈতিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পণ্য ও সেবা সরবরাহ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করা সম্ভব।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ আসাদুজ্জামান সরকার বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও বিশ্বস্ত সম্পর্ক রয়েছে। চীন বাংলাদেশের অকৃত্রিম ও পরীক্ষিত বন্ধু। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, কৃষি, মৎস্যসহ বিভিন্ন খাতে দু’দেশের মধ্যে সহযোগিতা স¤প্রসারণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। পারস্পরিক সম্পর্কের এই ধারাকে আরও এগিয়ে নিতে শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনে কার্যকর সহযোগিতা প্রয়োজন। 
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে ভাবনার ওপর গুরুত্বারোপ  করে উপাচার্য বলেন, 'চীন বাংলাদেশের আকৃতিম ও পরীক্ষিত বন্ধু, পারস্পরিক এই সম্পর্কের ধারা অব্যাহত রাখতে কার্যকর সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি'। 
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি গবেষণার সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ লক্ষ্যে তিনি ইউনান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদলকে খুকৃবির অন্তত পাঁচজন শিক্ষার্থীর স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নের সুযোগ সৃষ্টির বিষয়টি বিবেচনার আহŸান জানান। 
অন্যদিকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রফেসর ড. ওয়াং ইয়ান বাংলাদেশে এসে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন। তিনি বৈজ্ঞানিক সহযোগী হিসেবে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে গবেষণা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রমে সহযোগিতা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ইউনান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদলের এ সফর দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচন করতে পারে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা, যৌথ গবেষণা, কৃষিপ্রযুক্তির উন্নয়ন, পানি ব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষক-গবেষকদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ