খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

‘লংমার্চকে সর্বাত্মকভাবে সফল করতে খুলনাবাসীকে রাজপথে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখার আহবান’

খবর বিজ্ঞপ্তি |
০২:৪২ এ.এম | ১৫ অক্টোবর ২০২৬


লংমার্চকে সর্বাত্মকভাবে সফল করতে খুলনাবাসীকে রাজপথে ঐক্যবদ্ধ ভ‚মিকা রাখার আহবান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের দোসর ও গণবিরোধী শক্তির যেকোনো ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত নস্যাৎ করে দিতে দেশের জনগণ আজ ঐক্যবদ্ধ। জনগণের ন্যায়সঙ্গত অধিকার আদায় এবং দেশের সার্বিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আগামী ৩১ অক্টোবরের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, দেশে এখনো কিছু চিহ্নিত মহল ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে এবং ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে যারা লাভবান হতে চায়, তাদেরকে কড়া হুশিয়ারি প্রদান কওে বলেন, জনগণ আজ সজাগ ও সচেতন। কোনো রকম ষড়যন্ত্র বা চক্রান্ত করে আর এই দেশের বিপ্লব ও গণআকাক্সক্ষাকে ব্যর্থ করা যাবে না। ফ্যাসিবাদের সব রকম তৎপরতা রুখে দিতে ১১ দলীয় ঐক্য প্রস্তুত রয়েছে। রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমেই সকল চক্রান্তের জবাব দেওয়া হবে। 
বুধবার নগরীর শান্তিধাম মোড়ের তারের পুকুরস্থ মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর দলীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্য খুলনার প্রস্তুতি সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ কর্মসূচি সুশৃঙ্খল ও ব্যাপকভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই প্রস্তুতি সভার আয়োজন করা হয়। লংমার্চ কর্মসূচিকে সফল করতে খুলনার প্রতিটি ওয়ার্ড, থানা ও পেশাজীবী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
মহানগরী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি সহকারী সেক্রেটারি এড. শাহ আলমের পরিচালনায় বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির  মহানগর আহবায়ক আহম্মদ হামীম রাহাত, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহানগর সভাপতি মুফতি শরীফ সাঈদুর রহমান ও সেক্রেটারি মুফতি ওলিউল্লাহ মাহমুদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের  জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শহিদুল ইসলাম, লেবার পার্টির মহানগর সাধারণ সম্পাদক সোহেল হাওলাদার, জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি এড. মোস্তাফিজুর রহমান ও জেলা শূরা সদস্য অধ্যাপক স ম এনামুল হক, জাগপার মহানগরী যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোঃ বদরুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন মহানগর মূখপাত্র মোঃ সাকিবুল হাসান, মোঃ আরমান হাওলাদার, এনসিপির প্রেস এন্ড মিডিয়া সম্পাদক মোঃ হাসিবুর রহমান, এনসিপির এড. এ এ এম মমিনুজ্জামান ও সালাউদ্দিন মোল্লা, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোঃ ওহিদুল ইসলাম প্রমুখ। 
সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, “দেশের বিরাজমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং জনগণের মৌলিক অধিকার আদায়ের দাবিতে আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত রয়েছে। যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে ১১ দলীয় ঐক্য গড়ে উঠেছে, তার সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে। ৩১ অক্টোবরের লংমার্চ কেবল একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি দেশের মজলুম ও আপামর জনতার স্বতঃস্ফ‚র্ত গণজাগরণের প্রতীক।”
তিনি আরও বলেন, বিগত দিনের শাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশে যে নৈরাজ্য ও অবিচার তৈরি করা হয়েছিল, তা থেকে দেশের মানুষকে মুক্ত করতে রাজপথের আন্দোলন আরও জোরদার করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। ঢাকা থেকে শুরু হয়ে খুলনা হয়ে কুষ্টিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত এই লংমার্চ হবে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে এক বিরাট গণপ্রতিরোধ। খুলনার সর্বস্তরের আপামর জনতা এই কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে ইতিহাস সৃষ্টি করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রস্তুতি সভায় উপস্থিত ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা লংমার্চ বাস্তবায়নের সম্ভাব্য কৌশল, পথসভা, জনসংযোগ এবং লিফলেট বিতরণের মতো নানান পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। প্রত্যেকেই ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে রাজপথে সর্বোচ্চ উপস্থিতি নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, যেকোনো সফল রাজনৈতিক আন্দোলনের মূল শক্তি হচ্ছে সাধারণ জনগণ। তাই লংমার্চের বার্তা খুলনার প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। এর অংশ হিসেবে আগামী কয়েকদিন খুলনা মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ, পথসভা ও মতবিনিময় সভার উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এদিকে লংমার্চ বাস্তবায়নের কাজকে সুশৃঙ্খল ও সুনির্দিষ্ট করতে প্রস্তুতি সভা থেকে কয়েকটি বিভাগ ও তদারকি টিম গঠন করা হয়েছে। প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগ, মিডিয়া ও আইটি বিভাগ, শৃঙ্খলা ও স্বেচ্ছাসেবক বিভাগ, আপ্যায়ন ও অভ্যর্থনা বিভাগ, পরিবহন বিভাগ, মেহমান বিভাগ  ও মঞ্চ-ডেকোরেশনসহ ১৭টি উপ-কমিটি বা বিভাগ গঠন করা হয়। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ