খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

খুবিও গবেষণার উৎকর্ষ সাধনে এগিয়ে যাচ্ছে : উপাচার্য

রিসার্চ অ্যাক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড পেলেন জীব বিজ্ঞান স্কুলের ৭ শিক্ষক

খবর বিজ্ঞপ্তি |
০২:৫২ এ.এম | ১৫ অক্টোবর ২০২৬


গবেষণা ক্ষেত্রে অবদান ও কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘রিসার্চ অ্যাক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০২৫’ পেলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীব বিজ্ঞান স্কুলভুক্ত ৭টি ডিসিপ্লিনের ৭ জন শিক্ষক। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত গবেষণাকর্মের মূল্যায়নের ভিত্তিতে জীব বিজ্ঞান স্কুলের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো এ অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হলো।
অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষকরা হলেন এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রফেসসর ড. মোঃ ইয়ামিন কবীর, বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মোঃ মুরছালিন বিল্লাহ, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক সাধন চন্দ্র স্বর্ণকার, ফিশারিজ এন্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. অলোকেশ কুমার ঘোষ, ফরেস্ট্রি এন্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মোঃ ইফতেখার শামস্, ফার্মেসী ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক মোঃ মনিরুল ইসলাম এবং সয়েল, ওয়াটার এন্ড এনভায়রনমেন্ট সায়েন্স ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক ড. মিল্টন হালদার।
বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়। অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম।
উপাচার্য বলেন, বর্তমান সরকার দেশের জনগণকে দক্ষ জনসম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি উদ্ভাবন ও গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধি করেছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ও ইমপ্যাক্টফুল গবেষণার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে চায়। এ লক্ষ্যে ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবরেশনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অন্যতম প্রধান কাজ ফান্ডামেন্টাল রিসার্চ। রিসার্চ ফোকাসড বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ও গবেষণার উৎকর্ষ সাধনে এগিয়ে যাচ্ছে। বড় ধরনের গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়টি হিটের আটটি প্রকল্প পেয়েছে। এ সময় তিনি গবেষণায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য জীব বিজ্ঞান স্কুলের ডিনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুনর রশীদ খান। তিনি বলেন, প্রতিটি গবেষণাই মানুষের জীবনমান উন্নয়নের সঙ্গে সম্পর্কিত। গবেষণার ক্ষেত্রে অনেক সময় প্রতিক‚ল পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়। এ ধরনের অ্যাওয়ার্ড গবেষকদের কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের আরও উৎসাহিত করবে। এ সময় তিনি বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে গবেষণার পরিবেশ ও গবেষকদের উদ্বুদ্ধ করার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষকদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ নূরুন্নবী বলেন, যেকোনো স্বীকৃতিই আনন্দের এবং অনুপ্রেরণার। জীব বিজ্ঞান স্কুল প্রথমবারের মতো গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতি দিতে এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যা প্রশংসনীয়। গবেষণার কোনো নির্দিষ্ট সীমানা নেই। গবেষণার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি ও উদ্ভাবনের পথ উন্মোচিত হয়। এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষকদের গবেষণায় আরও উৎসাহিত করবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার সংস্কৃতি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জীব বিজ্ঞান স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ গোলাম হোসেন এর সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠান আয়োজক কমিটির আহবায়ক ও ফরেস্ট্রি এন্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধান প্রফেসর ড. মোঃ নবীউল ইসলাম খান। অনুষ্ঠানে অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষকবৃন্দ তাঁদের গবেষণা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা তুলে ধরেন।
একই অনুষ্ঠানে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিকট থেকে জাতীয় পর্যায়ে ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ পাওয়ায় বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মোঃ মুরছালিন বিল্লাহ এবং অর্থনীতি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মোঃ নাসিফ আহসানকে জীব বিজ্ঞান স্কুলের পক্ষ থেকে সম্মাননা জানানো হয়।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সয়েল, ওয়াটার এন্ড এনভায়রনমেন্ট ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক শারমিন সুলতানা ও ফরেস্ট্রি এন্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রভাষক নওরিন আহসান হাবিব। 
এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্কুলের ডিন, জীব বিজ্ঞান স্কুলভুক্ত ডিসিপ্লিনের প্রধান, বিভিন্ন বিভাগের পরিচালক ও শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ