খুলনা | শুক্রবার | ১৬ অক্টোবর ২০২৬ | ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় শিশু ধর্ষণের আসামির জামিন বাতিল, কারাগারে প্রেরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা |
১২:৫৪ এ.এম | ১৬ অক্টোবর ২০২৬


সাতক্ষীরার সদর উপজেলায় ৭ বছর বয়সী প্রথম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি মোশাররফ হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।  বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানালে শুনানী শেষে বিচারক বিলাশ মন্ডল আসামির জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
অভিযুক্ত মোশাররফ হোসেন (৬০) সদর উপজেলার পাথরঘাটা গ্রামের মৃত আছিদুর রহমান খান চৌধুরীর ছেলে। তিনি ঝাউডাঙা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলামের শ্যালক।
এর আগে গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সাতক্ষীরা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি দায়ের করেন শিশুটির মা। গত শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে সদর উপজেলার ঝাউডাঙা ইউনিয়নের ওয়ারিয়া গ্রামে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের বাড়ির ছাদে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত মোশাররফ হোসেন পলাতক ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র ও শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, গত শনিবার বিকেল ৩টার দিকে বাড়ির পাশে সমবয়সীদের সঙ্গে খেলতে বের হয়েছিল শিশুটি। বিকেল গড়িয়ে গেলেও সে বাড়িতে না ফেরায় তার দাদি ও চাচি খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের বাড়ির ছাদ থেকে শিশুটিকে গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে ওই বাড়ির ছাদে নিয়ে যান মোশাররফ হোসেন। সেখানে তার ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়।
স্বজনদের দাবি, ঘটনার পর বিষয়টি প্রকাশ না করতে এবং পুলিশকে না জানাতে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এ কারণে তারা প্রথমদিকে ভয়ে শিশুটিকে হাসপাতালে নিতে সাহস পাননি। পরে রোববার তারা শিশুটিকে যশোরের বাগআঁচড়া এলাকায় এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান।
পরবর্তী সময়ে ঘটনাটি জানাজানি হলে সদর থানার পুলিশ তৎপর হয়। গত মঙ্গলবার সকালে শিশুটিকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। একই দিন তাকে সাতক্ষীরা আদালতে হাজির করা হলে বিচারিক হাকিম তনিমা মন্ডলের আদালতে তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়।
সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক নাজমুল হক জানান, শিশুটির চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর আদালতে তার জবানবন্দি নেওয়া হয়েছিল। অবশেষে আজ আসামি নিজেই আদালতে আত্মসমর্পণ করায় তাকে কারাগারে পাঠানো হলো। আসামির পক্ষে আদালতে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী সফিউল ইসলাম সফি।
সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, শিশুটির মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু হওয়ার পর থেকেই পুলিশ ধর্ষক আসামীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। মামলাটি তদন্ত করছেন উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহারিয়ার।
অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, তার বাড়ির চারপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। ফুটেজ পরীক্ষা করলে ঘটনার প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে তিনি মনে করেন। তার শ্যালক অপরাধ করে থাকলে আইন অনুযায়ী শাস্তি হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তার সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে দাবি করেন রফিকুল ইসলাম।
স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা দ্রুত মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত শেষ করে চার্জশিট দাখিল এবং অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ