খুলনা | শুক্রবার | ১৬ অক্টোবর ২০২৬ | ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় জেলা প্রশাসকের নির্দেশ

ব্র্রহ্মরাজপুর মন্দিরে প্রতিমা থেকে সরিয়ে নেওয়া হলো রেশমি সূতা ও দিয়াশালাইয়ের কাঠি

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা |
১২:৫৭ এ.এম | ১৬ অক্টোবর ২০২৬


সাতক্ষীরায় জেলা প্রশাসনের নির্দেশে পূজার শেষ মুহূর্তে সদর উপজেলার ব্র্রহ্মরাজপুর বাজার সার্বজনীন পূজা মন্দিরে তৈরি করা প্রতিমার শরীর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে রেশমি সূতা ও দিয়াশালাইয়ের কাঠি। বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসক মিজ্ কাউসার আজিজ মন্দির প্রাঙ্গনে উপস্থিত হয়ে কর্তৃপক্ষকে দিয়াশলাইয়ের কাঠির প্রতিমা অপসারণের নির্দেশ দেন। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনার পরে বুধবার রাত ৮টার মধ্যে মন্দিরের প্রতিমার শরীর থেকে রেশমি সূতা ও দেড় লাখ দিয়াশালাইয়ের কাঠি সরিয়ে নেওয়া হয়।
এদিকে মন্দিরের প্রতিমার শরীর থেকে রেশমি সূতা ও দিয়াশালাইয়ের কাঠি সরিয়ে নেওয়া পর বুধবার রাত থেকেই নতুন করে তিল ও কিসমিস দিয়ে প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করা হয়। প্রতিমা শিল্পীরা রাত ৮টা থেকে কাজ শুরু করেন। বিরতিহীনভাবে চলছে নতুন করে প্রতিমার কাজ। বৃহস্পতিবার বেলা ২টা নাগাদ এই কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ।
স্থানীয়রা জানান, এবছর ব্রহ্মরাজপুর বাজার সার্বজনীন পূজা মন্দিরের এই প্রতিমাটি ছিল সাতক্ষীরা জেলার অন্যতম আকর্ষণ। দেড় লাখ দিয়াশলাইয়ের কাঠি ও রেশমি সূতা দিয়ে প্রতিমা তৈরির অভিনব উদ্যোগ ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। ব্যতিক্রমী এই শিল্পকর্ম দেখতে দর্শনার্থীদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। প্রতিমাটি নির্মাণে আয়োজক কমিটি ও শিল্পীরা দীর্ঘদিন ধরে নিরলস পরিশ্রম করেছেন। কিন্তু পূজার একেবারে শেষ সময়ে প্রতিমাটি অপসারণের নির্দেশ আসায় তাঁদের সেই পরিশ্রম ও আয়োজন একরকম অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।
ব্র্রহ্মরাজপুর বাজার সার্বজনীন পূজা মন্দির কমিটির উপদেষ্টা কানাই লাল সাহা ওরফে কানু বলেন, বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিস্ কাউসার আজিজ রেশমি সূতা ও দিয়াশালাইয়ের কাঠি দিয়ে তৈরি করা প্রতিমাটি পরিদর্শনে আসেন। এ সময় তাঁর সাথে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিমাটি অপসারণের নির্দেশ দেন। জেলা প্রশাসক এ নির্দেশকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ বলে উলে­খ করেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কমিটি প্রতিমাটি অপসারণ না করলে প্রশাসন নিজ উদ্যোগে তা সরিয়ে দেবে বলেও জানানো হয়।
তিনি অরো বলেন, মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা হয়েছে। এ অবস্থায় পূজার আর মাত্র এক দিন বাকি থাকতে প্রতিমা অপসারণ করে নতুন প্রতিমা নির্মাণ করা তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই বর্তমান প্রতিমাটি রেখেই প্রতিমার শরীর থেকে দেড় লাখ দিয়াশলাইয়ের কাঠি ও রেশমি সূতা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বুধবার রাত থেকেই  বর্তমানে প্রতিমার গায়ে তিল ও কিসমিস দিয়ে নতুন করে তৈরির কাজ চলছে। প্রতিমা শিল্পী নবদীপ সরকার একটি অসাধ্য কাজ সাধন করতে চলেছেন। বৃহস্পতিবার বেলা ২টার মধ্যে নতুন করে শুরু করা এই কাজ শেষ হবে বলে জানান তিনি।
প্রতিমা শিল্পী (ভাস্কর) নবদীপ সরকার জানান, এত অল্প সময়ের মধ্যে একটি মন্দিরের প্রতিমার আকৃতি পরিবর্তন করা সম্ভব হয় না। কিন্তু প্রশাসনের নির্দেশনা মানতে আমি আমার লোকজনকে নিয়ে রাতভর কঠোর পরিশ্রম করে নতুন প্রতিমার কাজ প্রায় শেষ করে ফেলেছি। আশা করছি আগে রেশমি সূতা ও দিয়াশালাইয়ের কাঠি দিয়ে বানানো প্রতিমার চেয়ে বর্তমান প্রতিমা আরো বেশী দর্শনীয় হবে। 
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিস্ কাউসার আজিজ বলেন, বারুদ ও দাহ্য পদার্থ দিয়ে প্রতিমা তৈরি করায় যে কোন মুহূর্তে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকে যায়। যে কারণে সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ও স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে প্রতিমা থেকে রেশমি সূতা ও দিয়াশালাইয়ের কাঠি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ