খুলনা | শনিবার | ১৭ অক্টোবর ২০২৬ | ২ কার্তিক ১৪৩৩

নিত্য পণ্যের বাজারে আগুন

আল মাহমুদ প্রিন্স |
০১:২৫ এ.এম | ১৭ অক্টোবর ২০২৬


বাজারে নিত্যডয়োজনীয় পণ্যের দামের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে চরম সংকটে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা। দ্রব্যমূল্যের ক্রম ঊর্ধ্বগতিকে কেউ কেউ দাবানলের সঙ্গে তৃলনা করছেন। আগে যেখানে প্রচলিত বাক্য ছিল ‘নিত্যপণ্যের বাজারে আগুন’। চাল-ডাল-তেল থেকে শুরু করে অতি প্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যের দামের একই অবস্থা। বিশ্ববাজারে অস্থিরতা, সুযোগসন্ধানী ব্যবসায়ীদের কারসাজিকে দায়ী করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। আবার কেউ কেউ অভ্যন্তরীণ বাজারের সুশাসনের অভাবকেও দায়ী করছেন।
নগরীর রূপসা কেসিসি মার্কেট, সন্ধ্যা বাজার, গল্লামারী ও নিউ মার্কেটসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য ও সবজির দাম সামগ্রিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী এবং খুব চড়া। স¤প্রতি সময়ে সরবরাহ ঘাটতি এবং পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কারণে বাজারে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা।
শুক্রবার খুলনার বাজারে চালের মূল্য কেজিপ্রতি বেড়েছে অন্তত দুই থেকে তিন টাকা। নগরীর বড় বাজারে প্রতিকেজি চাল স্বর্ণা ৪০ থেকে ৪২ টাকা, ২৮ বালাম ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, মিনিকেট ভালোমানের ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, নি¤œমানের ৫৪ থেকে ৫৬ টাকা, বাসমতি ৮০ থেকে ৮২ টাকা, কালোজিরা ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। 
অথচ, খুচরা বাজারগুলোতে প্রতিকেজি চাল স্বর্ণা ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, ২৮ বালাম ৫০ থেকে ৫২ টাকা, মিনিকেট ভালোমানের ৭০ থেকে ৭৫ টাকা, মিনিকেট নিম্নমানের ৫২ থেকে ৫৪ টাকা, বাসমতি ৮০ থেকে ৮৫ টাকা, কালোজিরা ১৫০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। 
আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব ও সরবরাহ সংকটের কারণে ভোজ্য সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে। খুচরা বাজারগুলোতে ভোজ্য সয়াবিন ফ্রেশ (৫ লিটার) বিক্রি হচ্ছে এক হাজার টাকা, ফ্রেশ (৫লিটার) এক হাজার টাকা, তীর (৫ লিটার) এক হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ, প্রতিলিটার সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে কমপক্ষে ২০০ টাকা। লুজ সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ২১০ থেকে ২১২ টাকা। 
মশুর ডালের দামও বেশ চড়া। উন্নত মানের মশুর ডাল (সরু) কেজিপ্রতি ১৩০ থেকে ১৬০ টাকা, মশুর ডাল (মোটা) ৯০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। 
কমছে না মুরগির দাম। নগরীর ময়লাপোতা মোড়স্থ কেসিসি সন্ধ্যা বাজার ও রূপসা এ্যাপ্রোচ রোডস্থ কেসিসি মার্কেটে প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি ১৬৫ টাকা, কক ২৬০ টাকা, সোনালী মুরগি ২৬০ টাকা, লেয়ার লালচে ৩৮০ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩৮০ টাকা, দেশি মুরগি ৫৫০-৬০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। কমছে না ডিমের দাম। প্রতিহালি লেয়ার মুরগির ডিম ৪৮ থেকে ৫০ টাকা, লালচে ডিম ৫২ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।  
প্রতি কেজি গরুর মাংস বাজারভেদে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা দরেও বিক্রি হচ্ছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বেশ সীমিত। বাজারে মাছের সরবরাহ থাকলেও দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে ও চড়া রয়েছে।
বৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি হওয়ায় বাজারে সবজির দাম ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। বাজারে সাধারণ মানের অধিকাংশ সবজির দাম এখন প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা। বেগুন ১০০ টাকাও বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৫০ টাকা এবং রসুন মানভেদে ১০০ থেকে ১২০ টাকা, চায়না রসুন ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য সবজি যেমন প্রতিকেজি মিষ্টি কুমড়া  ৫০ টাকা, পটল ও কচুরমুখি ৬০ টাকা এবং ঝিঙে ৬০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বাজারে কৃত্রিম সংকট রোধ, মূল্য তালিকা প্রদর্শন নিশ্চিতকরণ এবং সিন্ডিকেট ভাঙার জন্য নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত ও তদারকি নেই বললে চলে। আর অভিযান নিয়মিত না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। তবে পাইকারি ও খুচরা বাজারের মূল্যের ব্যবধানের কারণে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ