খুলনা | শনিবার | ১৭ অক্টোবর ২০২৬ | ২ কার্তিক ১৪৩৩

নগর জামায়াতের জরুরি রুকন সমাবেশে মাহফুজুর

৩১ অক্টোবরের ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ উপলক্ষে শিববাড়ি মোড়ের পথসভাকে জনসমুদ্রে পরিণত হবে

খবর বিজ্ঞপ্তি |
০২:০০ এ.এম | ১৭ অক্টোবর ২০২৬


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেছেন, শান্তিপূর্ণ লংমার্চকে বানচাল করার জন্য নানামুখী ষড়যন্ত্র চলছে এবং ভবিষ্যতেও হতে পারে। দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারীরা চায় না এদেশের মানুষ তাদের অধিকার ফিরে পাক, চায় না এদেশে ন্যায়বিচার ও সাম্য প্রতিষ্ঠিত হোক। কিন্তু আমি স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাইÑখুলনার মাটি থেকে যে আন্দোলনের সূচনা হবে, তা কোনো অপশক্তির রক্তচক্ষু বা ষড়যন্ত্রের কাছে মাথা নত করবে না। তিনি বলেন, আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রেখে আমাদের এগোতে হবে। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছেÑ“আর তোমরা নিরাশ হয়ো না এবং দুশ্চিন্তা করো না, তোমরাই বিজয়ী হবে যদি তোমরা মুমিন হও।” আমাদের ঈমানী শক্তি এবং জনগণের স্বতঃস্ফ‚র্ত অংশগ্রহণই আমাদের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। 
তিনি মেধা, শ্রম, সময় এবং সর্বাত্মক সামর্থ্য দিয়ে ৩১ অক্টোবরের ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ উপলক্ষে খুলনার বাবরী চত্বর (শিববাড়ি মোড়) জনসমুদ্রে পরিণত করতে সকলের প্রতি উদাত্ত আহবান জানান। 
শুক্রবার নগরীর সোনাডাঙ্গাস্থ আল ফারুক সোসাইটি মিলনায়তনে ৩১ অক্টোবর ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ বাস্তবায়ন উপলক্ষে খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর জরুরি রুকন সমাবেশে  সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
মহানগরী সহকারী সেক্রেটারি এড. শাহ আলমের পরিচালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা অঞ্চল জামায়াতের সহকারী পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর খুলনা অঞ্চল টিম সদস্য মাস্টার শফিকুল আলম। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন মহানগরী নায়েবে আমীর অধ্যাপক নজিবুর রহমান, প্রিন্সিপাল শেখ জাহাঙ্গীর আলম, আজিজুল ইসলাম ফারাজী, মুন্সি মঈনুল ইসলাম, অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, গাওসুল আযম হাদী, মীম মিরাজ হোসাইন, মাওলানা আ ন ম আব্দুল কুদ্দুস ও মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, মহানগরী যুব বিভাগের সভাপতি মুকারম বিল্লাহ, মাওলানা শেখ মোহাম্মদ অলিউল্লাহ, অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, মাওলানা শাহারুল ইসলাম, মুহাম্মাদ আব্দুল গফুর, পেশাজীবী বিভাগীয় সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মোল্লা আলমগীর, ২৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী এড. শফিকুল ইসলাম লিটন, মোস্তফা আল মুজাহিদ ও আশরাফুল আলম, খুলনা সদর থানা আমীর এস এম হাফিজুর রহমান, সোনাডাঙ্গা থানা আমীর জি এম শহীদুল ইসলাম, খালিশপুর থানা আমীর আব্দুল্লাহ আল মামুন, দৌলতপুর থানা আমীর মুশাররফ আনসারী, আড়ংঘাটা থানা আমীর মনোয়ার আনসারী, ব্যবসায়ী থানা সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, হাফেজ ইমরান খালিদ, খুলনা সদর থানা সেক্রেটারি আব্দুস সালাম, সোনাডাঙ্গা থানা সেক্রেটারি জাহিদুর রহমান নাঈম, খালিশপুর থানা আব্দুল আউয়াল, দৌলতপুর থানা মাওলানা মহিউদ্দীন, আড়ংঘাটা থানা সেক্রেটারি শেখ ফিরোজ আহমেদ তুহিন, ব্যবসায়ী থানা সেক্রেটারি ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী এস এম আজিজুর রহমান স্বপন প্রমুখ ।
মহানগরী আমীর বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে এদেশের ওপর জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসেছিল ফ্যাসিবাদী শাসন। ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেই ফ্যাসিবাদী শক্তির পতন ঘটলেও দেশবিরোধী শক্তিগুলো এখনও বসে নেই। তারা নানা কৌশলে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করার চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এই ক্রান্তিলগ্নে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের অধিকার রক্ষার্থে সমমনা ও দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে গঠিত ১১ দলীয় ঐক্য কোনো ব্যক্তি বা দলের সংকীর্ণ স্বার্থের জন্য নয়; বরং এটি এদেশের ১৭ কোটি মানুষের মুক্তি, ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণ এবং ফ্যাসিবাদের শেকড় পুরোপুরি উপড়ে ফেলার জাতীয় প্ল্যাটফর্ম। আর এই প্ল্যাটফর্মের ঘোষিত কর্মসূচি হিসেবে আগামী ৩১ অক্টোবর লংমার্চের ডাক দেওয়া হয়েছে। এই লংমার্চ কেবল একটি সাধারণ রাজনৈতিক মিছিল নয়, এটি হলো জনগণের অধিকার আদায়ের এক অপ্রতিরোধ্য অভিযাত্রা।
তিনি বলেন, খুলনা হচ্ছে বীর সংগ্রামীদের উর্বর ভ‚মি। ঐতিহাসিকভাবেই এই অঞ্চলের মানুষ যেকোনো অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকেছে। তাই খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীকে এই লংমার্চ বাস্তবায়নে সমগ্র দেশের সামনে একটি আদর্শ ও দৃষ্টান্তমূলক ভ‚মিকা পালন করতে হবে। আজ থেকে লংমার্চের দিন পর্যন্ত আমাদের প্রতিটি মুহূর্তকে কাজের জন্য নির্ধারণ করতে হবে। খুলনা মহানগরীর প্রতিটি ওয়ার্ড, প্রতিটি পাড়া-মহল্লা এবং প্রতিটি ঘরে ঘরে আমাদের এই লংমার্চের বার্তা ও জাতীয় ঐক্যের আহŸান পৌঁছে দিতে হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ