খুলনা | রবিবার | ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | ২ কার্তিক ১৪৩৩

টুথপিক-স্টিলের আড়ালে প্রসাধনী ও গাড়ির যন্ত্রাংশ, ৮ চালান জব্দ

খবর প্রতিবেদন |
০১:৩৯ এ.এম | ১৮ অক্টোবর ২০২৬


টুথপিক, পাওয়ার স্প্রেয়ার মেশিন, হিট ট্রান্সফার পেপার ও স্টেইনলেস স্টিলের মতো পণ্যের ঘোষণা দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে উচ্চ শুল্কের প্রসাধনী, নিষিদ্ধ ক্রিম, গাড়ির যন্ত্রাংশ, নাট-বল্টু ও বেয়ারিং আমদানির ঘটনা উদ্ঘাটন করেছে এনবিআরে সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) ও চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। শনিবার এক সংবাদ বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। আট চালানে শুল্ক ফাঁকির চেষ্টার অভিযোগে আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এনবিআর জানায়, চট্টগ্রাম বন্দরে কোনো চালানে ঘোষিত পণ্যের বদলে অন্য পণ্য পাওয়া গেছে, আবার কোনো চালানে ঘোষিত পণ্যের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত পণ্যও পাওয়া গেছে। এসব চালানে চীন, পাকিস্তান ও থাইল্যান্ড থেকে আনা বিভিন্ন পণ্য ছিল। কনটেইনার কাস্টমসের ব্যবস্থায় লক করা থাকার পরও প্রকৃত সিল পরিবর্তন করে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
চালানগুলোর মধ্যে রয়েছে : ঢাকার নিউমার্কেটের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘ফরচুন গ্লোবাল ট্রেডিং’ চীন থেকে ১১ হাজার ৯৫৬ কেজি পাওয়ার স্প্রেয়ার মেশিন আমদানির ঘোষণা দেয়। চালানটি পরীক্ষা করে ঘোষিত মেশিনের পরিবর্তে স্টেজ লাইট, ফেস ক্রিম, সান ক্রিম, টুথপেস্ট, পিলিং জেল, সিরাম, এলইডি লাইট, সানগ্লাস ও কালো চুলের শ্যাম্পু পাওয়া যায়। ঘোষিত ওজনের চেয়ে প্রায় ১ হাজার ৮১৭ কেজি বেশি পণ্য পাওয়া গেছে। এ চালানে সম্ভাব্য রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ আনুমানিক আড়াই কোটি টাকা।
টুথপিকের চালানে নিষিদ্ধ ক্রিম ও ডিলে স্প্রে : পুরান ঢাকার চকবাজারের ‘কাফ কর্পোরেশন’ চীন থেকে সাড়ে ২২ টন টুথপিক আমদানির ঘোষণা দেয়। বিল অব এন্ট্রি নম্বর সি-১০৯৮৭৬৬-এর চালান পরীক্ষা করে মাত্র ১ হাজার ৬২০ কেজি টুথপিক পাওয়া যায়। বাকি পণ্যের মধ্যে ছিল পাকিস্তানে তৈরি ‘গোরি বিউটি ক্রিম’, ফেস ক্রিম, সান ক্রিম, অ্যান্টি-এজিং জেল, হেয়ার রিমুভার স্প্রে, সানগ্লাস ও যৌন উত্তেজক হিসেবে বাজারজাত করা ‘ডিলে স্প্রে’। বিজ্ঞপ্তিতে কিছু ক্রিমকে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন-বিএসটিআই কর্তৃক নিষিদ্ধ বলে উলে­খ করা হয়েছে। সম্ভাব্য রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ আনুমানিক ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
রবার বুশের বদলে দামি গাড়ির যন্ত্রাংশ : ঢাকার ‘এইচ আর এন্টারপ্রাইজ’ থাইল্যান্ড থেকে ১৬ হাজার ৪০ কেজি ইঞ্জিন রবার বুশ আমদানির ঘোষণা দেয়। বিল অব এন্ট্রি নম্বর সি-১২১৬৭৩০-এর চালানে কায়িক পরীক্ষায় প্রকৃত রবার বুশ পাওয়া যায় ৬ হাজার ৬২৫ কেজি। বাকি পণ্যের মধ্যে ছিল ইঞ্জিন মাউন্টিং, সাসপেনশন বুশ, আর্ম বুশ, সেন্টার বেয়ারিং, স্প্রিং শ্যাকল ও স্টিয়ারিংয়ের মতো বিভিন্ন গাড়ির যন্ত্রাংশ। এ চালানে সম্ভাব্য রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ প্রায় ৪৪ লাখ টাকা।
একই প্রতিষ্ঠানের আরেকটি চালানে, বিল অব এন্ট্রি নম্বর সি-১২৩৪২৬৭-এ, কাস্টমসের নজরদারির মধ্যে কমিশনারের পূর্বানুমতি ছাড়া এইচএস কোড পরিবর্তনের আবেদনের চেষ্টা নস্যাৎ করার কথাও বিজ্ঞপ্তিতে উলে­খ করা হয়েছে।
হিট ট্রান্সফার পেপারের আড়ালে ফ্লেক্স ব্যানার : ‘নিউ ট্রাস্ট ট্রেডার্স’ চীন থেকে ২৩ হাজার ৬১৮ কেজি হিট ট্রান্সফার পেপার আমদানির ঘোষণা দেয়। বিল অব এন্ট্রি নম্বর সি-১০৫৪০০১-এর চালান পরীক্ষা করে মাত্র ৩ হাজার ১৬০ কেজি হিট ট্রান্সফার পেপার পাওয়া যায়। বাকি প্রায় ২১ হাজার ৪৬৭ কেজি পণ্যের মধ্যে ছিল ঘোষণাবহির্ভূত পিভিসি ফ্লেক্স ব্যানার। এ চালানে সম্ভাব্য রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ আনুমানিক ৪০ লাখ টাকা।
স্টেইনলেস স্টিলের ঘোষণায় নাট-বল্টু ও বেয়ারিং : বংশালের ‘নিউ রনি এন্টারপ্রাইজ’ ও ওয়ারীর ‘মোহাম্মাদীয়া ট্রেড’-এর দু’টি চালানেও ঘোষণার সঙ্গে পণ্যের অসংগতি পাওয়া গেছে। মোহাম্মাদীয়া ট্রেড ২২ টন স্টেইনলেস স্টিল সার্কেল ও এক্সকেভেটর গিয়ার আমদানির ঘোষণা দেয়। ঘোষিত পণ্যের মধ্যে মাত্র ৩ দশমিক ৮ টন পাওয়া যায়। এর বিপরীতে ২২ হাজার ১১৩ কেজি নাট, বল্টু ও স্ক্রু পাওয়া যায়। এ চালানে সম্ভাব্য রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ প্রায় ৩২ লাখ টাকা।
অন্যদিকে নিউ রনি এন্টারপ্রাইজের বিল অব এন্ট্রি নম্বর সি-১২৩৬৭৮৯-এর চালানে ১৭ হাজার ৫৯২ কেজি নাট-বল্টু, ২ হাজার ৭৮৭ কেজি ভারী রোলিং বেয়ারিং এবং ২ হাজার ৩৩৬ কেজি রিভলভিং চেয়ারের গ্যাস লিফট সিলিন্ডার পাওয়া যায়। এ চালানে সম্ভাব্য রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ আনুমানিক ৪২ লাখ টাকা।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে উলে­খ করা হয়েছে কাফ কর্পোরেশনের আরেকটি চালানের ঘটনা। কনটেইনারটি ইয়েলো লেনভুক্ত ছিল। শুল্ক ফাঁকির সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার পর সিআইসি ও চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের এআইআর শাখা কনটেইনারটি অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড ব্যবস্থায় লক করে। কায়িক পরীক্ষার নির্ধারিত তারিখের আগেই গত ১৯ সেপ্টেম্বর কনটেইনারটি অবৈধভাবে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় বিল অব লেডিংয়ে উলে­খ করা প্রকৃত সিল ভেঙে সেখানে অন্য সিল লাগানো হয়।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ