খুলনা | সোমবার | ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | ৩ কার্তিক ১৪৩৩

রামপালে বন্দোবস্তকৃত জমি দখল নিতে হামলার পর ধর্ষণের হুমকি

রামপাল প্রতিনিধি |
১২:০৫ এ.এম | ১৯ অক্টোবর ২০২৬


বাগেরহাটের রামপালে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর বন্দবস্ত নেয়া জমির দখল নিতে মৎস্য ঘেরে লুটপাট ও হামলায় বেশ কয়েকজনকে গুরুতর আহত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিকার পেতে বাগেরহাট আদালতে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। পরে আসামিরা জেল হাজত থেকে জামিনে এসে দিচ্ছেন ধর্ষণ ও হামলার হুমকি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে পরবর্তীতে করা হয়েছে রামপাল থানায় একটি জিডিও।
সরেজমিনে ও মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের কাস্টবাড়িয়া গ্রামে ৮৯ সালে ২৪ টি অসহায় পরিবারকে সরকারি জমি বন্দোবস্ত দেয় তৎকালীন এরশাদ সরকার। দীর্ঘ প্রায় ৩৭ বছর সরকারের দেওয়া নিয়মনীতি মেনে শান্তিপূর্ণ ভোগ দখলে রয়েছে ওই পরিবারগুলো। বর্তমানে সেখানে প্রায় শতাধিক পরিবার গড়ে উঠে বসবাস করছে তারা।
ওই জমি নিজেদের দাবি করে ২০১৮ সালে মোঃ জাকারিয়া, মোঃ মোজাদ্দেদ, মোঃ শাহাদাৎ, মোঃ নূরুল ইসলাম, মোঃ ওয়ালিউল্লাহ, সুরাইয়া বেগম ও নূর নাহার বেগম বাগেরহাট ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল আদালতে বাদী হয়ে একটি রেকর্ড সংশোধনী মামলা করেন। অথচ মামলা নিষ্পত্তি না হতেই জোরপূর্বক দখলীয় বন্দোবস্তকৃত জমি দখল নিতে পরিকল্পিতভাবে চালিয়েছে হামলা। এতে হামিদা (৫০), জোছনা (৩২)সহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়। পরে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয় বাগেরহাট জেলা সদর হাসপাতালে। এরপর তাদের মৎস্য ঘেরে লুটপাট করে হাতিয়ে নিয়েছে প্রায় দু’লক্ষ টাকার মাছ। অসহায় পরিবারগুলি প্রতিকার পেতে গত ১৬ সেপ্টেম্বর মোঃ কামাল শেখ, মোঃ বিল্লাল শেখ, তোফাজ্জেল শেখ, শহাদত হোসেন,  মোঃ মুকুল শেখ, শফরুল গাজী, হাকিম শেখ, সোনামিয়া শেখকে আসামি করে বাগেরহাট জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়, আসামিরা হত্যার উদ্দেশ্যে আমাদের উপর হামলা করেছে। এসময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আসামি মোঃ বিল্লাল শেখ কুড়াল দিয়ে জোসনা বেগমের পায়ে কোপ দিলে পা কেটে যায় এবং ৭টি সেলাই লাগে। হামলাকারীরা রুপা বেগমকে পানিতে ডুবিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। এছাড়াও স্বর্ণের মালামাল ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ওই ঘটনায় মোঃ কামাল শেখ, তোফাজ্জেল শেখ ও মোঃ মুকুল শেখকে পুলিশ আটক করে জেল হাজতে পাঠায়। পরবর্তীতে ছাড়া পেয়ে আসামিরা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের পুনরায় হামলার পরিকল্পনা করে। এসময় ভুক্তভোগী হানিফ গাজী বাদী হয়ে ২৪ সেপ্টেম্বর বাগেরহাট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শফরুল গাজী, মোঃ মুকুল শেখ, জুলফিকার আলী শেখ, সোনা মিয়া শেখ, মোঃ নূরুল শেখ, মোঃ কামাল শেখ, তোফাজ্জল শেখ, শাহাদত হোসেন, বিল্লাল শেখ, ইমরান হাওলাদারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
আসামীরা সংঘবদ্ধ হয়ে তাদের আবারো হুমকিসহ দিচ্ছেন বিভিন্ন ভয়ভীতি। এতে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে পুনরায় জোসনা বেগম বাদী হয়ে রামপাল থানায় ১০ অক্টোবর একটি জিডি করে। এতে প্রতিপক্ষরা আরো বেশি ক্ষিপ্ত হয়ে দেন ধর্ষণের হুমকি। বারবার অসহায় পরিবারের উপর নির্যাতন ও হামলায় তারা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে। বন্দোবস্তর দখলীয় জমি জোরপূর্বক দখল চেষ্টা ও হামলার ঘটনায় ক্ষতিপূরণসহ ভুক্তভোগী পরিবারগুলি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। 
অভিযুক্তদের ভাই মোঃ নুরুল ইসলাম সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমাদের জমি তারাই জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে। তবে বাটোয়ারা মামলা নিষ্পত্তি না হতেই কেনো জোরপূর্বক জমি দখল নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তোর দিতে পারেননি।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ