খুলনা | সোমবার | ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | ৩ কার্তিক ১৪৩৩

দেবহাটায় শামীম হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনী গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা |
০১:৩২ এ.এম | ১৯ অক্টোবর ২০২৬


সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে যুবক ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে পিটিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফেসবুকে উস্কানিদাতা মোঃ ফজলুল হক আমিনীকে (৪৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ ও এসআরবি’র যৌথ দল। শনিবার রাত ১১টার দিকে জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার ফরিদপুর গ্রামে তাঁর এক আত্মীয়ের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার ফজলুল হক আমিনী দেবহাটা উপজেলার দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামের কারী মো. রুহুল আমিন এর ছেলে। গণপিটুনিতে নিহত ওয়াহিদুজ্জামান শামীম (৪৩) উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের বড়শান্তা গ্রামের মোঃ শামছুদ্দিন সানার ছেলে। পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দেবহাটা থানা পুলিশ ও এসআরবি’র একটি যৌথ দল অভিযান চালিয়ে শনিবার রাত ১১টার দিকে কালিগঞ্জ উপজেলার ফরিদপুর গ্রামের এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে শামিম হত্যা মামলার প্রধান আসামি মোঃ ফজলুল হক আমিনীকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁকে প্রধান আসামি করে দেবহাটা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হওয়ার পর আত্মগোপনে চলে যায় সে। 
এদিকে শামিম হত্যা মামলায় পূর্বে গ্রেফতারকৃত এজাহার নামীয় দুই আসামি মোঃ আসাদুল ও মোঃ মোক্তার হোসেন খানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শনিবার (১৭ অক্টোবর) আদালতে ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদেন জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা দেবহাটা থানার উপ-পরিদর্শকব আল আমিন।
দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এইচ এম শাহীন হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনীকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রোববার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। একই সাথে তাকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়। এ ঘটনায় অগেই গ্রেফতারকৃত মোক্তার হোসেন খান ও আসাদুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শনিবার আদালতে পাঁচ দিন করে রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে। পলাতক বাকি আসামিদের গ্রেফতার করতে ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
প্রসঙ্গতঃ গত সোমবার সন্ধ্যায় স্ত্রীর সঙ্গে পারিবারিক বচসায় জড়িয়ে গালিগালাজ করেন মানসিক রোগাক্রান্ত ওয়াহিদুজ্জামান শামীম। এ সময় স্থানীয় এক ব্যক্তি সেই কথাবার্তার অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। অডিওতে ধর্ম নিয়ে কটূক্তি রয়েছে দাবি করে স্থানীয় ফজলুল হক আমিনী ফেসবুক লাইভ করে ‘তৌহিদী জনতা’কে একত্রিত হওয়ার আহŸান জানান। এরপর উত্তেজিত জনতা শামীমের বসতবাড়ির গেট ভাঙচুর করে তাকে বাজারে এনে মারধর করে। পরের দিন কুলিয়া এলাকার এক গ্রাম্য চিকিৎসকের চেম্বারে চিকিৎসা  নিতে গেলে মঙ্গলবার রাতে ফজলুল হক আমিনী ও তার অনুসারীরা চিকিৎসাধীন শামীমকে ওই চেম্বার থেকে বের করে আবারও গণপিটুনি দেয়। এসময় জরুররি সেবা ৯৯৯ থেকে কল পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে আমিনীর নেতৃত্বে দুই শতাধিক লোক হাসপাতালে গিয়ে ফের হামলা চালায় এবং চিকিৎসাধীন শামীমকে দেয়ালে আছাড় মেরে বাইরে এনে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে। পরবর্তীতে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ