খুলনা | সোমবার | ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | ৩ কার্তিক ১৪৩৩

ফুলতলায় লংমার্চ প্রস্তুতি সভায় গোলাম পরওয়ার

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যার বিচার করতে হবে

ফুলতলা প্রতিনিধি |
০২:০৪ এ.এম | ১৯ অক্টোবর ২০২৬


বিরোধী দলের লংমার্চকে পিকনিকের সাথে তুলনা করে সরকারের বিভিন্ন দায়িত্বশীলের মন্তব্যকে কান্ডজ্ঞানহীন  উল্লেখ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার সাংবাদিকদের বলেন, জাতি ভেবেছিলো অভ্যুত্থান পরবর্তী সরকার জন আকাক্সক্ষা পূরণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিবে। কিন্তু জনগণের আশা আকাক্সক্ষার তোয়াক্কা না করে ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে গঠিত সরকার সংবিধান সংস্কারের পরিবর্তে সংশোধনের ঘোষণা দিয়ে জাতির সাথে প্রতারণা করেছে। তিনি বলেন, দেশের একটি দ্বায়িত্বশীল এবং কল্যাণকর রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও তার নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট সরকারের এই দ্বিমুখী আচরণের বিরোধিতা করে জাতিকে আশান্বিত করার লক্ষ্যে এই লংমার্চের ঘোষণা করেন। আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট প্রায় ৭০% জনগণ গণভোটে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে তাদের মতামত জানিয়েছেন। সুতরাং কালবিলম্ব না করে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যার বিচার করতে হবে অন্যথায় জাতি আপনাদের ক্ষমা করবে না।
রোববার বেলা ১১টায় খুলনা জেলা জামায়াতের উদ্যোগে সাত দফা দাবি আদায়ে ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া অভিমুখে লংমার্চ ও ফুলতলা বাসস্ট্যান্ড চত্বরের পথসভা বাস্তবায়নে ফুলতলা উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক মুন্সী মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জতউল্যাহ এমপি, জেলা আমীর মাওলানা এমরান হোসাইন। সদস্য সচিব অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুসের পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন  জেলা সহকারী সেক্রেটারি মুন্সী মঈনুল ইসলাম, অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, অধ্যক্ষ গাওসুল আযম হাদি, মুহাঃ আমিনুল ইসলাম, গোলাম মোস্তফা আল মুজাহিদ, এড. আবু ইউসুফ মোল্লা,  মুহাম্মদ আশরাফুল আলম, অধ্যাপক মহিউল ইসলাম, জেলা শিবির সভাপতি মুহাঃ মমিনুর রহমান, অধ্যাপক আব্দুল আলিম, সৈয়দ হাসান মাহমুদ টিটো, মাওলানা আবুল হাসান, গাজী সাইফুল্লাহ,  গাজী মোর্শেদ মামুন, মাওলানা সাইফুল হাসান, আব্দুর রশিদ বিশ্বাস,  আফজাল হোসেন, মাওলানা মুশফিকুর রহমান, শেখ আলাউদ্দিন প্রমুখ।
আগামী ৩১ তারিখ ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়ার লংমার্চ সফল করতে জনগণের প্রতি আহবান জানিয়ে তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, জনগণের আকাক্সক্ষাই হলো আমাদের সাত দফা। জনগণ সংবিধান সংশোধন নয়, সংস্কার চাই, জুলাই গণহত্যার বিচার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি নয়, ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে চাই, গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল ও সার সংকটের নিরসন চাই। সুতরাং জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট উত্থাপিত সাত দফা দাবি অবিলম্বে মেনে নিন। এ সময় তিনি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব যাতে তারা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘেœ উদ্যাপন করতে পারে সেদিকে জামায়াত নেতা- কর্মীদের সজাগ দৃষ্টি রাখার আহবান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ ইজ্জতউল্ল্যাহ এমপি বলেন, ৩১ অক্টোবর ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ বাস্তবায়ন করার পাশাপাশি আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বিজয়ী হয়ে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জন আকাক্সক্ষা পূরণে সকলকে কাজ করতে হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ