খুলনা | মঙ্গলবার | ২০ অক্টোবর ২০২৬ | ৪ কার্তিক ১৪৩৩

ধর্ম আলাদা হতে পারে, রাষ্ট্র সবার: প্রধানমন্ত্রী

খবর প্রতিবেদন |
১১:৪০ পি.এম | ১৯ অক্টোবর ২০২৬

 

সব ধর্মের মানুষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে বাংলাদেশি হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, রাষ্ট্র সবার এবং প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আজ সোমবার রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই দেশ আপনার, এই দেশ আমার। আসুন আমরা সকলে মিলে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশটিকে গড়ি।’

ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে বাংলাদেশি হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্ম আলাদা হতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্র সবার। এই দেশে প্রত্যেক নাগরিকের যেমন অধিকার রয়েছে, তেমনি সবারই রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব রয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, ‘রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে আপনাকে নিরাপত্তা দেওয়া, ঠিক একইভাবে এই রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে আমাকেও নিরাপত্তা দেওয়া। আমাদের সকলের দায়িত্ব হচ্ছে আমরা একে অপরকে দেখে রাখব। আমরা একে অপরের সঙ্গে কাজ করে এ দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সকলেই এই দেশের সন্তান, এই দেশের মানুষ, আমরা বাংলাদেশি। আমরা প্রত্যেকে মানুষ। সবার আগে এটিই হচ্ছে আমাদের পরিচয়। এখানে উপস্থিত আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশি।’

মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার সময় মানুষ একে অপরের ধর্মীয় পরিচয় জানতে চায়নি। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিষ্টান—কে কোন ধর্মের, তা বিবেচনা না করেই সবাই স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন।

গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়লে মানুষ রাজনৈতিক অধিকার ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য রাজপথে নেমেছে। তখনো আন্দোলনকারীরা একে অপরের ধর্মীয় পরিচয় জানতে চাননি। সবাই মানুষের কথা বলার অধিকার ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সোচ্চার হয়েছেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে তারেক রহমান বলেন, সেই সময় হাজার হাজার, লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। তখনো কেউ কাউকে জিজ্ঞেস করেননি, তিনি কোন ধর্মের মানুষ।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেদিন তো সব ধর্মের মানুষই ছিল। অনেকেই শহীদ হয়েছেন, আজকেই আমি ওসমানী উদ্যানে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করে এসেছি। সেখানে তো হিন্দু মানুষও আছে, মুসলমান মানুষও আছে, বৌদ্ধও আছে, খ্রিষ্টানও আছে। সকলেই তো সেদিন জান কোরবানি দিয়েছেন মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার জন্য।’

দেশের উন্নয়ন ও পরিবর্তনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের পরিবর্তন ঘটলে সবাই উপকৃত হবেন। মানুষ ভালো থাকলে কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য হয়ে ওঠে না। তিনি বলেন, ‘আসুন, আমরা আমাদেরকে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করি। বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে আমরা একে অপরকে চিনি ও জানি।’

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের সব সনাতন ধর্মাবলম্বীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে এই অনুষ্ঠানটি হচ্ছে একটি আনন্দের অনুষ্ঠান। আজকে এই অনুষ্ঠানটি হচ্ছে একটি মিলনমেলা।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক জানান, অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ