খুলনা | মঙ্গলবার | ২০ অক্টোবর ২০২৬ | ৪ কার্তিক ১৪৩৩

সর্বাত্মক বিক্ষোভ, দেশটিতে আংশিক কারফিউ জারি

ফ্রান্সের পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে মেয়রদের হাতে কারফিউ জারির ক্ষমতা

খবর প্রতিবেদন |
০১:৪১ এ.এম | ২০ অক্টোবর ২০২৬


সপ্তাহান্তে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়া তীব্র সহিংসতা ও লুটপাটের পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষগুলোকে সোমবার সন্ধ্যা থেকেই আংশিক কারফিউ বা সান্ধ্য আইন জারির আহŸান জানিয়েছেন ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকরনু। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ঘোষণা দেন।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রধানমন্ত্রী লেকরনু বলেন, জনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে তিনি সম্পূর্ণভাবে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। প্রয়োজনে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা যেতে পারে উলে­খ করে তিনি জানান, বর্তমান পরিস্থিতির জন্য এই মুহূর্তে আংশিক কারফিউ বেশি উপযোগী মনে হচ্ছে। তবে কোন কোন শহরে এই আংশিক কারফিউ কার্যকর করা হবে কিংবা এর রূপ কেমন হবে, সে বিষয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানাননি। পাশাপাশি, পুরো প্যারিসজুড়ে কোনো পূর্ণাঙ্গ কারফিউ জারির সম্ভাবনা তিনি পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই কারফিউ গুলো স্থানীয় এবং আংশিক হতে হবে। পুরো প্যারিসকে কারফিউর আওতায় নিয়ে আসার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।
একই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন নুনেস সাংবাদিকদের জানান, আগামীকাল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় প্যারিস সেন্ট জার্মেইন এবং বার্সেলোনার মধ্যকার নির্ধারিত ফুটবল ম্যাচটি বাতিলের কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।
এদিকে সপ্তাহজুড়ে সহিংসতা ও লুটপাটের পর ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টার মধ্যেই সোমবার ফ্রান্সের বড় বড় শহরগুলোর মেয়ররা সরকারের কাছে কড়া জবাবদিহিতা দাবি করেছেন। নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাব ছিল বলেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন তারা।
মেয়রদের হাতে কারফিউ জারির ক্ষমতা : ফ্রান্সের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষের জানমাল ও সম্পদ রক্ষার স্বার্থে কিছু শহরে মেয়রদেরকে আংশিকভাবে কারফিউ জারির ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকোর্নু।
তিনি বলেন, সরকার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোকে ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করবে এবং ‘এই তহবিল সহিংসতার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকেই আসবে’। “এমন একটি আইন প্রণয়ন করা হবে, যার মাধ্যমে এটা নিশ্চিত করার উপায় বের করা হবে যে, যারা সম্পদের ক্ষতি করেছে, তাদেরকেই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে,” বলেন লেকোর্নু।
দাঙ্গা ও লুটপাটের ফলে যারা কাজ হারিয়েছেন, তাদের জন্য একটি ‘আংশিক বেকারত্ব তহবিল’ গঠনের ঘোষণাও দিয়েছে ফ্রান্স সরকার।
জনগণ যাতে দ্রুত সেই তহবিলের সহায়তা পেতে পারে, সেটি নিশ্চিত করতে ফ্রান্স সরকার বীমা সংস্থাগুলোর সাথে কথা বলছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী।
চলমান বিক্ষোভ, দাঙ্গা, লুটপাটসহ সামগ্রিকভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য উগ্র-বামপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছেন সেবাস্তিয়ান লেকোর্নু।
এর বিরুদ্ধে প্যারিসে সোমবার অভিযান শুরু হচ্ছে বলে জানিয়ে তিনি বলেছেন, অভিযানে দুইশ’ কর্মকর্তা অংশ নিবেন, যারা সহিংসতার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দায়ীদের চিহ্নিত করবেন।
এদিকে, ফ্রান্সে চলমান বিক্ষোভ ঠেকাতে ব্যর্থতার দায় নিয়ে প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রো কাছে পদত্যাগের ইচ্ছাপোষণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রো সেটি প্রত্যাখ্যান করে তাকে স্বপদে বহাল থাকার আহŸান জানিয়েছেন। 
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা ছাত্র বিক্ষোভের ধারাবাহিকতায় বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে এই সহিংসতার সূত্রপাত হয়। আসছে বসন্তে দেশটির পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ঠিক ছয় মাস আগে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাগুলো রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এর পাশাপাশি ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং ক্রমবর্ধমান ঋণের বোঝা নিয়েও সরকারের ওপর চাপ দিন দিন বাড়ছে। 
সূত্র: রয়টার্স।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ