খুলনা | মঙ্গলবার | ২০ অক্টোবর ২০২৬ | ৪ কার্তিক ১৪৩৩

বীমা খাতে অর্থপাচার রোধে কঠোর নির্দেশনা বিএফআইইউর

খবর প্রতিবেদন |
০১:৪১ এ.এম | ২০ অক্টোবর ২০২৬


মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন প্রতিরোধে দেশের সব বীমা প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। নির্দেশনায় প্রতিটি বীমা প্রতিষ্ঠানে কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিট গঠন, গ্রাহকের পরিচয় যাচাই, সন্দেহজনক লেনদেন পর্যবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলারের মাধ্যমে এ নির্দেশনা জারি করে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি বীমা প্রতিষ্ঠানকে পরিচালনা পর্ষদ বা সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন প্রতিরোধে নিজস্ব নীতিমালা তৈরি করতে হবে।
প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রতিবছর কর্মকর্তা-কর্মচারী ও এজেন্টদের এ বিষয়ে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার জানাতে হবে এবং নীতিমালা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ ছাড়া প্রতিটি বীমা প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ে একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিট গঠন করতে হবে। এ ইউনিটের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন প্রধান মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তা (সিএএমএলসিও)। তাঁর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানের মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন প্রতিরোধ কার্যক্রম তদারকি করা হবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিটকে প্রতিবছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যক্রমের অগ্রগতি ও সুপারিশসংবলিত প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে। প্রধান নির্বাহীর মতামতসহ প্রতিবেদনটি পরিচালনা পর্ষদ বা সর্বোচ্চ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় উপস্থাপন করতে হবে। এর একটি অনুলিপি পরবর্তী বছরের ফেব্র“য়ারির মধ্যে বিএফআইইউতে পাঠাতে হবে।
বীমা প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি শাখা ও ইউনিটে কমপক্ষে তিন বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে।
এ ছাড়া এজেন্টদের জন্যও এ-সংক্রান্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনোনয়ন করতে হবে। তাঁদের গ্রাহকের পরিচয় যাচাই, পলিসির লেনদেন পর্যবেক্ষণ, সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত ও প্রতিবেদন তৈরি, নথি সংরক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।
গ্রাহক নির্বাচনের ক্ষেত্রে বেনামে বা ছদ্মনামে কোনো বীমা পলিসি খোলা বা পরিচালনা করা যাবে না। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের আওতায় তালিকাভুক্ত ব্যক্তি বা সত্তা এবং বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক তালিকাভুক্ত ব্যক্তি বা নিষিদ্ধ ঘোষিত সত্তার নামে পলিসি খোলা বা পরিচালনাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নির্দেশনায় গ্রাহক হিসেবে পলিসিধারীর পাশাপাশি পলিসির প্রকৃত সুবিধাভোগী এবং অন্যের পক্ষে পলিসি পরিচালনাকারী ব্যক্তি বা সত্তাকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। দেশের সব বীমা প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে পরিপালন করতে হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ