খুলনা | মঙ্গলবার | ২০ অক্টোবর ২০২৬ | ৪ কার্তিক ১৪৩৩

ধর্ম অবমাননার অভিযোগে শামীমকে পিটিয়ে হত্যা

সাতক্ষীরায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ফজলুল হক আমিনী

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা |
০২:০০ এ.এম | ২০ অক্টোবর ২০২৬


সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় থানায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতারকৃত ফজলুল হক আমিনী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রোববার রাত ৭টার দিকে তাকে সাতক্ষীরার জ্যেষ্ঠ বিচারকি হাকিম তৃতীয় আদালতের বিচারক নূসরত জাহানের খাস কামরায় হাজির করা হয়। এ সময় তিনি নিজেকে ওয়াহেদুজ্জামান শামীম হত্যা মামলার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক নাজমুল হুদা জানান, ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি শেষে ফজলুল হক আমিনীকে রোববার রাত ৯টার পর কারাগারে পাঠানো হয়। 
এদিকে, শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ফরিদপুর গ্রামে তাঁর এক আত্মীয়ের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। রোববার দুপুরে তাকে সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে এসআরবি (স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন)-৬। বিকাল ৪টার দিকে তাকে সাতক্ষীরা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠায় পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত প্রধান আসামি মোঃ ফজলুল হক আমিনী সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামের কারী মোঃ রুহুল আমিনের ছেলে।
আদালতের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায়, ফজলুল হক আমিনী তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন যে, ওয়াহেদুজ্জামান শামীম নাস্তিক ছিল। তবে তাকে মারার কোন উদ্দেশ্য তার ছিল না। এক্সিডেন্টলি হয়ে গেছে। আপাতত রাষ্ট্রের আইনের দৃষ্টিতে তিনি অপরাধী হলেও আল্লাহর দৃষ্টিতে তিনি কি, সেটা আল্লাই ভালো জানেন। এ সময় তিনি হত্যাকান্ডে কারা কারা জড়িত ছিল তাদের নাম প্রকাশ করেন। তবে, হত্যাকান্ডের পর তাকে এজন্য বীরত্ব প্রকাশ করে সামাজিক মাধ্যমে বক্তব্য দিতে দেখা যায়।
দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এইচএম শাহীন বলেন, গ্রেফতারের পর ফজলুল হক আমিনী হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। এ কারণে তাকে রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন নেই বলে মনে করছে পুলিশ।
প্রসঙ্গত : গত ১২ অক্টোবর সোমবার সন্ধ্যায় স্ত্রীর সঙ্গে পারিবারিক বচসায় জড়িয়ে গালিগালাজ করেন মানসিক রোগাক্রান্ত ওয়াহিদুজ্জামান শামীম। এ সময় স্থানীয় এক ব্যক্তি সেই কথাবার্তার অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। অডিওতে ধর্ম নিয়ে কটূক্তি রয়েছে দাবি করে স্থানীয় ফজলুল হক আমিনী ফেসবুক লাইভ করে ‘তৌহিদী জনতা’কে একত্রিত হওয়ার আহŸান জানান। এরপর উত্তেজিত জনতা শামীমের বসতবাড়ির গেট ভাঙচুর করে তাকে বাজারে এনে মারধর করে। পরের দিন কুলিয়া এলাকার এক গ্রাম্য চিকিৎসকের চেম্বারে চিকিৎসা  নিতে গেলে মঙ্গলবার রাতে ফজলুল হক আমিনী ও তার অনুসারীরা চিকিৎসাধীন শামীমকে ওই চেম্বার থেকে বের করে আবারও গণপিটুনি দেয়। এসময় জরুররি সেবা ৯৯৯ থেকে কল পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে আমিনীর নেতৃত্বে দুই শতাধিক লোক হাসপাতালে গিয়ে ফের হামলা চালায় এবং চিকিৎসাধীন শামীমকে দেয়ালে আছাড় মেরে বাইরে এনে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে। পরবর্তীতে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ