খুলনা | বুধবার | ২১ অক্টোবর ২০২৬ | ৫ কার্তিক ১৪৩৩

যানজটে স্থবির নেত্রকোনা অনিয়ন্ত্রিত অটোরিকশাকে শৃঙ্খলায় আনুন

|
১১:৪৭ পি.এম | ২০ অক্টোবর ২০২৬


মাত্র দুই কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগছে পুরো এক ঘণ্টা! কোনো মেগা সিটি বা মহাসড়কের কথা হচ্ছে না, এটি নেত্রকোনা জেলা শহরের দৈনন্দিন বিষাদময় বাস্তবতা। ১৮৮৭ সালে গঠিত প্রাচীন এই পৌরসভার রাজপথে নাগরিক জীবন এখন যানজটের তোড়ে সম্পূর্ণ স্থবির। শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে চাকরিজীবী-সব পেশার মানুষকে সামান্য গন্তব্যে পৌঁছাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাজপথে প্রহর গুনতে হচ্ছে, যা কোনো সভ্য নগর ব্যবস্থাপনার লক্ষণ হতে পারে না।
নেত্রকোনার এই যানজট কোনো দৈব ঘটনা নয়; বরং অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও প্রশাসনিক তদারকির চরম ঘাটতিরই অনিবার্য পরিণতি। পৌরসভার হিসাবে নিবন্ধিত বাহন পৌনে ছয় হাজার হলেও বাস্তবে সাড়ে সাত হাজারের বেশি ইজিবাইক, মিশুক ও অটোরিকশা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শহরের মাত্র ৯৩ কিলোমিটার সড়কে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যত্রতত্র পার্কিং, ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে বসা অবৈধ বাজার এবং অতিরিক্ত আকারের অটোরিকশার অদক্ষ চালনা। প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত এই তিন চাকার বাহনগুলো পুরো শহরকে কার্যত এক বিশাল অবরুদ্ধ খাঁচায় পরিণত করেছে।
দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, অতীতে একাধিকবার ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ, নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড তৈরি ও ফুটপাত দখলের বিরুদ্ধে উদ্যোগ ও আশ্বাসের কথা বলা হলেও তার কোনোটিই আলোর মুখ দেখেনি। উচ্ছেদ বা নিয়ন্ত্রণের লোকদেখানো কিছু তৎপরতা সাময়িকভাবে দৃশ্যমান হলেও কিছুদিন পর পরিস্থিতি আবার আগের মতোই অনিয়ন্ত্রিত রূপ নেয়। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ যখন কেবল আলোচনার টেবিলে পরিকল্পনা সীমাবদ্ধ রাখে, তখন তার মাশুল গুণতে হয় রাজপথে আটকে থাকা সাধারণ মানুষকে। যানজটের এই জট ছাড়াতে প্রয়োজন সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ। এ মুহূর্তে অটোরিকশা বন্ধ করা বাস্তবসম্মত হবে না, কারণ এর সঙ্গে বহু মানুষের জীবিকা ও যাতায়াতের প্রশ্ন জড়িত; কিন্তু এর একটি সুনির্দিষ্ট সুশাসন ও শৃঙ্খলা থাকা জরুরি। অবিলম্বে নিবন্ধনহীন ও শহরের বাইরের অটোরিকশা প্রবেশ কঠোরভাবে বন্ধ করতে হবে। নির্দিষ্ট রুট, শিফটিং পদ্ধতি ও সুনির্দিষ্ট স্ট্যান্ড নির্ধারণের পাশাপাশি রাস্তার পাশের অবৈধ দখলদারি উচ্ছেদ করা প্রয়োজন। পৌরসভা, ট্রাফিক বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের সমন্বিত পদক্ষেপ ছাড়া নেত্রকোনাবাসীকে এই স্থবিরতা ও ভোগান্তি থেকে মুক্ত করা সম্ভব নয়। আশ্বাস বা প্রতিশ্র“তি নয়, কর্তৃপক্ষ এখন একটি টেকসই সমাধানের পথ বেছে নেবে-এটাই প্রত্যাশা। শুধু নেত্রকোনা নয়; দেশের অনেক জেলা, উপজেলা ও পৌরসভা শহরে সড়কের অব্যবস্থাপনা চরমে। জেলা প্রশাসন, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে এখানে জোরালো ও সমন্বিত ভূমিকা রাখতে হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ