খুলনা | বুধবার | ২১ অক্টোবর ২০২৬ | ৫ কার্তিক ১৪৩৩

আজ বিজয়া দশমী, প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হচ্ছে দুর্গোৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০১:২৫ এ.এম | ২১ অক্টোবর ২০২৬


মহানবমী ছিল মঙ্গলবার। এদিন সকালের দিকে ভক্তদের অঞ্জলি ও ভোগ প্রদানসহ দেবী দুর্গার সুদৃষ্টির প্রত্যাশায় মণ্ডপগুলোয় ভক্তদের ভিড় লক্ষ করা যায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় আরও বাড়তে থাকে। উৎসাহ-উদ্দীপনায় দিন পাড় হলেও সন্ধ্যায় ছিল বিদায়ের সুর। দুর্গতিনাশিনী মহিষাসুর মর্দিনীর আরাধনা শেষ হলে কৈলাসে ফুল, ফসল তথা শষ্য সমৃদ্ধির বার্তা দিয়ে নৌকায় চড়ে স্বামীগৃহে ফিরবেন দেবী দুর্গা।

বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীতে বিদায় নেবেন তিনি। আর সেই সঙ্গে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহত্তর উৎসব দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।

গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হয় পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসব। গত রবিবার মহাসপ্তমী, সোমবার মহাষ্টমী এবং মঙ্গলবার মহানবমীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়। আজ বুধবার বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব।

হিন্দু সনাতন শাস্ত্রমতে, এই নবমী তিথিতে রাবণবধের পর রাজা শ্রী রামচন্দ্র এই পূজা করেছিলেন। নীলকণ্ঠ ফুল ও যজ্ঞের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয় নবমী বিহিত পূজা। নবমী পূজার মাধ্যমে মানবকুলে সম্পদ লাভ হয়। তাই শাপলা, শালুক ও বলিদানের মাধ্যমে দশভুজা দেবীর পূজা হয়েছে। নীল অপরাজিতা ফুল মহানবমী পূজার বিশেষ অনুষঙ্গ। নবমী পূজায় যজ্ঞের মাধ্যমে দেবী দুর্গার কাছে আহুতি দেওয়া হয়। ১০৮টি বেলপাতা, আমকাঠ ও ঘি দিয়ে এই যজ্ঞ করা হয়।

ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রচলিত শাস্ত্রীয় রীতি অনুযায়ী, এবার দেবী দুর্গার আগমন হয়েছে ঘোটকে (ঘোড়া) এবং গমন করছেন নৌকায়। দেবীর আগমন ও গমনকে ঘিরে ভক্তদের মধ্যে রয়েছে নানা ধর্মীয় বিশ্বাস ও ব্যাখ্যা।

এ বছর খুলনা জেলায় মোট ৮৮৭টি এবং খুলনা মহানগরে ৭৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপিত হচ্ছে। মহানগরে ছয়টি ঘাটে প্রতিমা বিসর্জনের আয়োজন করা হয়েছে।

বিজয়া দশমীর দিন বুধবার সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে ঘট বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে দশমীর আনুষ্ঠানিকতা। এরপর দিনব্যাপী চলবে পূজা-অর্চনা, মিষ্টিমুখ ও সিঁদুর খেলা। বিবাহিত নারীরা পরস্পরকে সিঁদুর পরিয়ে দেবী দুর্গার কাছে মঙ্গল কামনা করবেন। উৎসবের এ আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে ভক্তরা দেবীকে বিদায় জানাবেন।

মহানগর পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি প্রশান্ত কুমার কুন্ডু বলেন, বুধবার সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে ঘট বিসর্জনের মধ্য দিয়ে বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরপর দিনব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান চলবে। সন্ধ্যার পর মহানগরের ছয়টি ঘাটে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে। এর মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব।

প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাচ্ছেন ভক্তরা। আগামী বছর আবারও দেবীর আগমনের প্রত্যাশা নিয়ে শেষ হচ্ছে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ